সূরা আল-ইনফিতার: ৫০টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. সূরা আল-ইনফিতার পবিত্র কুরআনের কত নম্বর সূরা?
উত্তর: ৮২ নম্বর সূরা।
২. এই সূরাটি কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর: এটি একটি মক্কী সূরা।
৩. সূরা আল-ইনফিতারে মোট কয়টি আয়াত আছে?
উত্তর: ১৯টি।
৪. এই সূরায় কয়টি রুকু আছে?
উত্তর: ১টি।
৫. কোন সাহাবী ইশার নামাজে লম্বা কিরাত পড়ার কারণে নবীজি (সা.) তাকে এই সূরা পড়তে বলেছিলেন?
উত্তর: হযরত মুআজ (রা.)।
৬. রাসূল (সা.) ইশার নামাজে কোন কোন ছোট সূরা পড়তে উৎসাহিত করেছেন?
উত্তর: সূরা আল-আলা, সূরা আশ-শামস এবং সূরা আল-ইনফিতার।
৭. কিয়ামতকে চাক্ষুষ দেখার অনুভূতি পেতে চাইলে রাসূল (সা.) কোন তিনটি সূরা পড়তে বলেছেন?
উত্তর: সূরা আত-তাকভীর, সূরা আল-ইনফিতার এবং সূরা আল-ইনশিকাক।
৮. সূরার শুরুতে আকাশ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: কিয়ামতের দিন আকাশ বিদীর্ণ বা ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
৯. আকাশ বিদীর্ণ হওয়ার বিষয়টি আর কোন সূরায় উল্লেখ আছে?
উত্তর: সূরা আল-মুযযাম্মিল (আয়াত ১৮)।
১০. নক্ষত্রমণ্ডলীর অবস্থা কিয়ামতের দিন কেমন হবে?
উত্তর: নক্ষগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে।
১১. কিয়ামতের দিন সমুদ্রগুলোর কী দশা হবে?
উত্তর: সমুদ্রগুলো উত্তাল হয়ে উঠবে এবং মিষ্টি ও লোনা পানি মিশে একাকার হয়ে যাবে।
১২. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে সমুদ্রের 'বিস্ফোরণ' (fujjjirat) মানে কী?
উত্তর: সমুদ্রের এক অংশ অন্য অংশের ওপর আছড়ে পড়বে এবং বিস্ফোরিত হবে।
১৩. হাসান বসরী (রহ.)-এর মতে সমুদ্রের পানির পরিণাম কী হবে?
উত্তর: আল্লাহ সমুদ্রের সব পানি শুকিয়ে ফেলবেন।
১৪. 'কবরসমূহ মথিত বা উম্মোচিত হওয়া' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবরগুলো ফেটে যাবে এবং সেখানে শায়িত মানুষগুলো জীবিত হয়ে বেরিয়ে আসবে।
১৫. কিয়ামতের দিন মানুষ তার কোন বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে?
উত্তর: মানুষ তার জীবনের পূর্বের ও পরের (অগ্রিম প্রেরিত ও পেছনে রেখে আসা) সব আমল সম্পর্কে জানতে পারবে।
১৬. "হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?"—এখানে মানুষের কোন অবস্থার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মানুষের অহংকার, উদাসীনতা ও অবাধ্যতার কথা বলা হয়েছে।
১৭. আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করার পর তার দেহকে কেমন করেছেন?
উত্তর: মানুষকে সুঠাম, সুবিন্যস্ত এবং সুন্দর অবয়ব দান করেছেন।
১৮. মানুষের আকৃতি কার ইচ্ছায় নির্ধারিত হয়?
উত্তর: মহান আল্লাহর ইচ্ছায়।
১৯. মানুষের চেহারা কার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে?
উত্তর: পিতা, মাতা, মামা বা চাচার চেহারার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে।
২০. সন্তানের গায়ের রঙ কেন মা-বাবার মতো না হয়ে অন্যরকম হতে পারে?
উত্তর: রাসূল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, পূর্বপুরুষের কোনো বংশীয় প্রভাব বা জিনের কারণে এমন হতে পারে।
২১. রাসূল (সা.) নিজের হাতের তালুতে থুথু ফেলে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, মানুষ যেন আল্লাহকে অপরাগ মনে না করে, কারণ আল্লাহ তাকে তুচ্ছ বীর্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন।
২২. মানুষ কখন আল্লাহর পথে দান করার কথা বলে, যা আসলে ফলপ্রসূ হয় না?
উত্তর: যখন মৃত্যু বা নিঃশ্বাস কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছায়।
২৩. মানুষ কেন আল্লাহর নির্দেশ পালনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে?
উত্তর: যখন মানুষ বিচার দিবস বা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করে।
২৪. মানুষের প্রতিটি কাজ তদারকির জন্য কারা নিয়োজিত আছেন?
উত্তর: সংরক্ষণকারী ফেরেশতাগণ।
২৫. পবিত্র কুরআনে এই ফেরেশতাদের কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
উত্তর: 'কিরামান কাতিবিন' বা সম্মানিত লেখকবৃন্দ।
২৬. কিরামান কাতিবিন ফেরেশতাদের প্রধান দায়িত্ব কী?
উত্তর: মানুষের ভালো ও মন্দ সব কাজ লিখে রাখা ও সংরক্ষণ করা।
২৭. ফেরেশতারা আমাদের সম্পর্কে কী জানেন?
উত্তর: মানুষ যা কিছু করে, ফেরেশতারা তা সবই অবগত হন।
২৮. ফেরেশতাদের উপস্থিতির কথা মনে করে মানুষের কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: পাপাচার ও অন্যায় কাজ করার সময় লজ্জিত হওয়া উচিত।
২৯. 'আবরার' বা পুণ্যবান ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন কোথায় থাকবেন?
উত্তর: তারা পরম সুখের স্থান জান্নাতে থাকবেন।
৩০. ইবনে উমর (রা.)-এর মতে 'আবরার' কারা?
উত্তর: যারা পিতা-মাতার অনুগত ছিল এবং সন্তানদের সাথে ভালো ব্যবহার করত।
৩১. 'ফুজ্জার' বা পাপাচারীরা কিয়ামতের দিন কোথায় থাকবে?
উত্তর: তারা প্রজ্বলিত জাহান্নামে থাকবে।
৩২. পাপাচারীরা কখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে?
উত্তর: প্রতিফল দিবসে বা বিচারের দিনে।
৩৩. জাহান্নাম থেকে পাপাচারীদের কি কোনো মুক্তি আছে?
উত্তর: না, তারা সেখান থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।
৩৪. জাহান্নামীদের শাস্তি কি কখনো শিথিল করা হবে?
উত্তর: না, এক মুহূর্তের জন্যও তাদের শাস্তি কমানো হবে না।
৩৫. আল্লাহ কেন 'প্রতিফল দিবস কী' তা দুইবার জিজ্ঞেস করেছেন?
উত্তর: সেই দিনের ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বোঝানোর জন্য।
৩৬. প্রতিফল দিবসে মানুষের ক্ষমতা কেমন থাকবে?
উত্তর: সেদিন কেউ কারো কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখবে না।
৩৭. কিয়ামতের দিন কার অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না?
উত্তর: একমাত্র আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া।
৩৮. রাসূল (সা.) তাঁর নিকটাত্মীয় বনু হাশিমদের কী সতর্কবাণী দিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, তারা যেন নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে।
৩৯. "সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর"—এর অর্থ কী?
উত্তর: সেদিন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো শাসন বা হুকুম চলবে না।
৪০. কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কথা আর কোন সূরায় আছে?
উত্তর: সূরা গাফির (আয়াত ১৬)।
৪১. 'মালিকি ইয়াওমিদ্দিন' আয়াতের অর্থ কী?
উত্তর: বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক।
৪২. সূরা ফুরকানের ২৬ নং আয়াতে সেই দিন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: সেদিন প্রকৃত রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর।
৪৩. কাতাদাহ (রহ.)-এর মতে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কর্তৃত্বের স্বরূপ কী?
উত্তর: সেদিন সব ক্ষমতা শুধু আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত থাকবে।
৪৪. সূরা আল-ইনফিতারের মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: কিয়ামতের চিত্র, মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং জবাবদিহিতার বর্ণনা।
৪৫. আল্লাহর কোন গুণটি মানুষকে উদাসীন করে তোলে বলে ব্যাখ্যাকারীরা মনে করেন?
উত্তর: আল্লাহর অসীম ধৈর্য ও অনুগ্রহ।
৪৬. মানুষের আমলনামা সংরক্ষণের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: যাতে বিচার দিবসে কেউ তার কৃতকর্ম অস্বীকার করতে না পারে।
৪৭. 'ইনফিতার' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিদীর্ণ হওয়া বা ফেটে যাওয়া।
৪৮. এই সূরায় মানুষের প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত কোনটি?
উত্তর: মানুষকে অপূর্ব সুন্দর গঠন দিয়ে সৃষ্টি করা।
৪৯. জাহান্নামীদের জন্য সবচেয়ে বড় কষ্ট কী হবে?
উত্তর: জাহান্নাম থেকে বের হতে না পারা এবং অনন্তকাল শাস্তি ভোগ করা।
৫০. এই সূরার মাধ্যমে মুমিনদের জন্য কী বার্তা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণে থাকা।

3 মন্তব্যসমূহ
Bhalo
উত্তরমুছুনশুকরিয়া
মুছুনBhalo
উত্তরমুছুনলেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।