সম্মানিত পাঠক আমরা আজ জানবো মুসলিম উম্মাহর দরদী মুজাহিদ আবু ওবায়দা রহ রহ.এর জীবন সম্পর্কে এবং তাঁর জাগরণী বক্তব্য সমূহ।
আসল নাম: হুদাইফা সামির আবদুল্লাহ আল-কাহলৌত
উপনাম: আবু উবাইদা (أبو عبيدة)
জন্ম: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫, গাজা স্ট্রিপ, ফিলিস্তিন 🇵🇸
মৃত্যু: ৩০ আগস্ট ২০২৫ (ইস্রায়েলি বিমান হামলায়) সূত্র উইকিপিডিয়া
তিনি ইজ্জে দি-আল-কাসসাম ব্রিগেডস—হামাসের ঘাঁটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠনের মিলিটারি শাখা—এর মুখ্য মিডিয়া ও সামরিক মুখপাত্র ছিলেন।
জীবন ও কর্মযাত্রা
![]() |
| আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতবাসী করুন |
🔸 শুরুর জীবন ও পটভূমি
• হুদাইফা আল-কাহলৌত গাজা সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শরণার্থী ক্যাম্পে বড় হন। তাঁর পরিবার ১৯৪৮ সালের Nakba-র পর নিজ ভূমি হারিয়ে গাজায় স্থায়ী হয়।
• তিনি ইউনরওয়া স্কুল সিস্টেমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। সূত্র আল জাজিরা নেট
কাসসাম ব্রিগেডসে যোগদান
• ২০০২ সালে তিনি প্রথমবার কাসসাম ব্রিগেডস-এর মঞ্চে উপস্থিত হন, বিভিন্ন সামরিক অভিযানের তথ্য ঘোষণা করেন এবং বিভিন্ন ভিডিও, বুলেটিনে দেখানো হতো।
• ২০০৭ সাল থেকে তিনি ফৌজি মুখপাত্র ও মিডিয়া প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী প্রায় দুই দশকই এই ভূমিকায় ছিলেন।
মিডিয়া ও বক্তব্যের ভূমিকা
• তার দেশের বাইরে ও সারা অরব বিশ্বে যে পরিচিতি গড়েছিল, তা মূলত তাঁর বক্তৃতা, ঘোষণা ও ভাষণের মাধ্যমে। �
• তাঁর ভাষা ছিল ফোয়া ভাষা ও প্রভাবশালী, যা গাজা-বিরোধী যুদ্ধের সময় মুষ্টিভরে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। �
• লোকেরা তাকে “মস্কৃত মুখ” বা “লথাম (mask) নায়ক” বলে ডাকে, কারণ তিনি প্রায়শই মুখ ঢেকে (কোভাইয়ে বা কুপ্ত কাপড় দিয়ে) মিডিয়ায় উপস্থিত হতেন।
নিচে আবু উবাইদা (আল-কাসসাম ব্রিগেডসের সামরিক মুখপাত্র)-এর কিছু ভাষণ/বক্তব্য (উদযাপন, উজ্জীবন, বার্তা, অনুবাদসহ) সংক্ষিপ্তভাবে সংগ্রহ করে দেওয়া হলো — সব তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সূত্র থেকে সংগৃহীত: সূত্র
“আমরা আমাদের মহান, ধৈর্যী, অবিচল, এবং বিজয়ী জনগণের মস্তক চুম্বন করি, এবং তাদেরকে সর্বোচ্চ সালাম ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শুভ বার্তা জানাই:
‘আল্লাহই প্রথম ও শেষের আদেশদাতা; সেই দিনে বিশ্বাসীরা আল্লাহর বিজয়ে আনন্দ অনুভবে। তিনি যাকে জয়ের ইচ্ছা করেন, তাকে জয় দেন।’” ✍️ এটা ছিল তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্যের অনুচ্ছেদ, যেখানে তিনি গাজা জনগণের ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা তুলে ধরেছেন।
“আমাদের যোদ্ধারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও মনোবলে রয়েছে। তারা অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসিকতার উদাহরণ প্রদর্শন করছে। ইনশাআল্লাহ, তারা আগ্রাসীদের কঠিন শিক্ষা দেবে।”
📍 “গত কয়েক মাসে আমাদের যোদ্ধারা শত্রুকে নতুন কৌশল ও পদ্ধতিতে চমকে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় আমাদের যোদ্ধারা বহু অভিযান পরিচালনা করেছে...” �
📍 “যদি জায়োনিস্ট শত্রু তার গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে তা শুধু নিজেদের সৈন্যদের কবর খোঁড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাবে।” �
✍️ এই বক্তব্যে তিনি সামরিক কৌশল ও ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধারায় ভক্তি ও আত্মবিশ্বাস জোর দেওয়া হয়েছে।
“গাজা উপত্যকার ওপর চলমান নির্মম আগ্রাসনকে বন্ধ করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং শত্রুর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
“গাজা দখল ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ এক অভিশাপে পরিণত হবে।” �
“শত্রু যখন গাজা দখল করার চেষ্টা করবে, তখন তা তার জন্য ভয়াবহ বিপদে পরিণত হবে। তারা তাদের সৈন্যদের রক্ত দিয়ে মূল্য দিতে হবে।” — আবু উবাইদা �
مصراوي.كوم
👉 এখানে তিনি ইসরায়েলের দখলবাদী আগ্রাসনকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং এসকল যুদ্ধের জন্য তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। �
“২০০ দিন পার হওয়ার পরেও শত্রু গাজার রণে আটকে আছে — কোনো লক্ষ্য, কোনো বিজয় নেই, এবং কোনো মুক্তির পথও নেই।” — আবু উবাইদা �
👉 এই বক্তব্যটিতে তিনি সাংবাদিকদের সামনে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে ব্যর্থতার মতো ব্যাখ্যা করেছেন। �
যুদ্ধবিরতি ও প্রচলিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তব্য (২০২৫)
📌 বক্তব্য (সংক্ষিপ্ত অনুবাদ):
“যা কিছু শত্রু যুদ্ধ দিয়ে করতে পারেনি, তা তারা হুমকি ও কৌশলে কখনোই করতে পারবে না। আমরা যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের বিনিময় নিয়ে প্রতিশ্রুতিশীল থাকি কিন্তু শত্রুর অপরাধ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা তাদের ভুল।” — আবু উবাইদা সূত্র
যুদ্ধের কৌশল ও প্রতিরোধ” (জুলাই ১৮, ২০২৫)
📌 মূল বক্তব্যের অনুবাদ:
“আমাদের যোদ্ধারা শত্রুকে নতুন কৌশলে চমকে দিচ্ছে। শেষ কয়েক মাসে আমরা শত শত শত্রুর সৈন্যকে হত্যা ও আহত করেছি এবং হাজারো শত্রু মানসিক ভাঙনের শিকার হয়েছে।” সূত্র
“শত্রুর আগ্রাসন ও প্রতিরোধের স্থায়িত্ব”
📌 মূল বক্তব্যের অনুবাদ:
“আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো গাজার ওপর আগ্রাসন বন্ধ করা, এবং কোন বন্দি বিনিময় বা আলোচনা তখনই হবে, যখন আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে থামবে।”
শত্রুর বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইচ্ছা”
📌 মূল বক্তব্যের অনুবাদ:
“গাজার ওপর নির্মম আগ্রাসন বন্ধের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং শত্রুর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।” সূত্র ইনসাফ২৪
এছাড়াও তার অনেক বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমি সেখান থেকে সামান্য কিছু এখানে জমা করলাম।
বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত
• তিনি গাজা যুদ্ধ (2014) সহ পরে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর শুরু হওয়া “তুফান আল-আকসা” অভিযান পর্যন্ত বহু সংঘাতে মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
• প্রভাবশালী ঘোষণা, যুদ্ধের বিবরণ, প্রচার-ভূমিকা—সেটাই ছিল তার পরিচিতি।
মৃত্যু ও পরিপ্রেক্ষিত
• ৩০ আগস্ট ২০২৫-এ ইস্রায়েলি বিমান হামলায় আবু উবাইদা নিহত হন বলে বলা হয়। �
• হামাস ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁর শহীদ হবার খবর নিশ্চিত করে এবং তাঁর আসল নাম প্রকাশ করে। �
• পরে তাঁর পদবি “আবু উবাইদা” নতুন একজন মুখপাত্রকে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে বলে জানানো হয়। আল জাজিরা নেট
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
🚩 আবু উবাইদা সাধারণ কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি প্রতিক, একটি সংগঠনের কণ্ঠস্বর ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন।
📌 মিডিয়া পরিচালনা ও বক্তব্যের কলাকৌশল তার পরিচিতি গড়ে তুলেছে এবং তাকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করেছিল।
আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের প্রতিটি নেককার ঘর থেকে এমন সাহসী যুদ্ধ তৈরি করে দিন।
এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করুন। শহীদি মৃত্যু দান করুন।
ইসলামকে পুরা বিশ্বে সমুন্নত করার জন্য মুসলিম উম্মাহকে সেই চিন্তা চেতনা দান করুন।
অবশ্যই আপনি শেয়ার করে দ্বীনি ভাইবোনদেরকে জানার সুযোগ দিন।

1 মন্তব্যসমূহ
উত্তম পোস্ট
উত্তরমুছুনলেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।