আহলে হাদিসরা যেসব হাদিস সহি হওয়া সত্বেও আমল করে না। সেই প্রসঙ্গের হাদিস গুলো উপর আমরা আমল না করার কারণে যদি কাফের মুশরিক হয়ে যায় তাহলে তারা কেন কাফের মুশরিক হবে না। 

আমি এখানে এমন সব সহীহ হাদীস উল্লেখ করব যেগুলো সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তারা আমল করেন না।

রাসুল সাঃ প্রত্যেকটা তাকবীরের সাথেই রফউল ইয়াদাইন করতেন:—

তারা এই টনটনা সহীহ হাদিস অনুযায়ী আমল করেনা কেনো? 
Picture of Canva 


🍀দলীলঃ—

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا رِفْدَةُ بْنُ قُضَاعَةَ الْغَسَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عُمَيْرِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ فِي الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ বিন উমায়র এর দাদা উমায়র বিন হাবীব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি (দাদা) বলেন,

 

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয সলাতের প্রতিটি তাকবীরের সাথে তাঁর দু’হাত উপরে উঠাতেন। 

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৬১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ رِيَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ ‏.‏

ইবনু আব্বাস(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি তাকবীরের সময় তাঁর দু’ হাত উপরে উঠাতেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৬৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD 


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي كُلِّ خَفْضٍ، وَرَفْعٍ، وَرُكُوعٍ، وَسُجُودٍ وَقِيَامٍ، وَقُعُودٍ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، وَيَزْعُمُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ "

ইবনে উমর (নামাযে) প্রত্যেক ওঠা-নামার সময়, রুকু ও সেজদার সময়, দাঁড়ানোর সময় ও দুই সিজদার মাঝখানে বসার সময় রফয়ে ইয়াদাইন করতেন এবং বলতেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এমনটি করতেন। 

(তাহাবী, মুশকিলুল আছার، হা/৫৮৩১)

হাদীসটির মানঃ শায়খ শুআয়ব আরনাউত বলেছেন, رجاله ثقات رجال الشيخين এর রাবীগন বিশ্বস্ত , বুখারী ও মুসলিম শরীফের রাবী। শায়েখ আলবানী রহঃও এসব জায়গায় রফা করাকে সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন এবং এই বর্ণনাকে সহীহও আখ্যা দিয়েছেন। (সিফাতুস সালাহ, পৃ. ১৫১, ১৫৪)


👉প্রত্যেক উঠানামা বা তাকবীরের সাথেই রফউল ইয়াদাইন করার এই বিষয়টির উপরে অনেক সহীহ শাহেদ হাদীস আছে, অর্থাৎ এটা প্রমাণিত যে, প্রথমদিকে প্রতিটা তাকবীরের সাথে একরাকাতেই প্রায় সাতবার রফুল ইয়াদাইন করা হতো ৷৷৷(যেটা নামধারী আহলে হাদীসরা আমল করতেছেনা)


💝💗💝এরপরে রাসুলুল্লাহ সঃ ①তাকবীরে তাহরিমা, ②রুকুতে যেতে③সিজদায় যেতে④দুই সিজদার মাঝে⑤সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷

অর্থাৎ সহীহ হাদীস মোতাবেক দুই সিজদার মাঝেও একসময়ে রফউল ইয়াদাইন করা হতো !!(যেটা রফাদান আমলের স্লোগানধারী নামধারী আহলে হাদীসরা আমল করেনা)

🍀দুই সিজদার মাঝে রফুল ইয়াদাইনের দলীলঃ—

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّهُ «رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفَعَ يَدَيْهِ فِي صَلَاتِهِ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَإِذَا سَجَدَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ»،

মালিক ইব্‌ন হুয়াইরিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাতে উভয় হাত ওঠাতে দেখেছেন। যখন তিনি রুকূ করতেন, যখন রুকূ থেকে তাঁর মাথা তুলতেন আর যখন সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা ওঠাতেন। তাঁর হাতদ্বয় তাঁর উভয় কানের লতি বরাবর হতো।

  

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১০৮৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

 ↓

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، «أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ كُلَّهُ» يَعْنِي: رَفْعَ يَدَيْهِ

মালিক ইব্‌ন হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাতে প্রবেশ করতেন তখন তাঁর হাতদ্বয় ওঠাতেন। আর যখন রুকূ করতেন ঐরুপ করতেন, আর যখন রুকূ থেকে মাথা ওঠাতেন তখনও ঐরুপ করতেন। আর যখন সিজদা থেকে মাথা ওঠাতেন তখনও ঐরুপ করতেন। অর্থাৎ তাঁর হাতদ্বয় ওঠাতেন।

  

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১১৪৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


🍂🍀দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করার এই হাদীস দুটো সম্পর্কে আহাফিরা মন্তব্য করে যে- প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত কাতাদাহ রহঃ মুদাল্লিস, আর তিনি عن শব্দে হাদীস বর্ননা করেছেন তাই হাদীস সহীহ নয় ৷৷

🌹🍀তাদের উদ্দেশ্যে আমার প্রথম কথাঃ—


🍂🍀 আহাফিরাও একটা বিষয়ে একমত যে, সহীহুল বুখারী-মুসলিম কোনো যঈফ হাদীসের কিতাব নয় !!!

কাতাদাহ রহঃ এর عن শব্দের ডজন ডজন বর্ননা সহীহ বুখারী-মুসলিমে আছে ৷ এমনকী পরের রাবী نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ(মৃত-৮৯ হি) থেকেও কাতাদাহ রহঃ(৬১-১১৮হি) এর عَنْ শব্দের বর্ননা রয়েছে ৷৷

 

🍂উদাহরণস্বরুপ:—

حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ.... ‏........

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


🌹🍀দ্বিতীয় কথাঃ—

মুদাল্লিস রাবীদের বুখারী-মুসলিমের عَنْ যদি এই কারণে সহীহ হয় যে, পরের রাবী থেকে উক্ত রাবীর “সামিউতু, আখবারনা বা হাদ্দাসানা” প্রমাণিত রয়েছে, তবে বলবো نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ (নসর্ বিন আছেম) থেকেও قَتَادَةَ (কাতাদাহ) রহঃ এর সামা প্রমাণিত আছে ৷৷

🍂উদাহরণস্বরুপ:—.

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ نَصْرَ بْنَ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ.....

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৮৮০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


🌻কাতাদাহ রহঃ(৬১-১১৮হি)এর সমসাময়িক যাদের থেকে তার সামা অপ্রমাণিত,,অর্থাৎ যাদের থেকে কাতাদাহ রহঃ এর عن শব্দের বর্ননা যঈফ,,,,সেই লিষ্টের কোথাও نَصْرَ بْنَ عَاصِمٍ “নসর্ বিন আছেম” এর নাম নেই:—

قَالَ شُعْبَةُ: لاَ يُعْرَفُ لِقَتَادَةَ سَمَاعٌ مِنْ أَبِي رَافِعٍ. وَقَالَ يَحْيَى بنُ مَعِيْنٍ: لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ سَعِيْدِ بنِ جُبَيْرٍ وَلاَ مِنْ مُجَاهِدٍ.

قَالَ يَحْيَى بنُ سَعِيْدٍ القَطَّانُ: لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ سُلَيْمَانَ بنِ يَسَارٍ. وَقَالَ أَحْمَدُ بنُ حَنْبَلٍ: لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذَةَ العَدَوِيَّةِ.

(সিয়ারু আ'লামুন নুবালাঃ ৫/২৬৯)


🌻ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, 

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺎﻓﻆ ﺍﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ

ﻭﺃﺻﺢ ﻣﺎ ﻭﻗﻔﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ ﻣﺎ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ...

সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইনের ক্ষেত্রে যেসমস্ত হাদিস সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছি তার মধ্যে নাসাঈ রহ. যা বর্ণনা করেছেন তা সবচেয়ে অধিক সহিহ।

 

(অতঃপর নাসাঈ শরীফের উপরোক্ত হাদিস ইবনে হাজার সহিহ বুখারীর শরাহ'তে উল্লেখ করেন)

[ফাতহুল বারী- অধ্যায়ঃ রাফউল ইয়াদাইন, আলবানী'র তামামুল মিন্নাহ ফিত তা'লিক ফিকহুস সুন্নাহ-১৭২ পৃষ্টা, সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতাওয়া-১৮৬৬২৫ ]


🌹🍀তৃতীয় কথাঃ- 

দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করা বিষয়ে নাসাঈর উক্ত হাদীস ছাড়াও আরো হাদীস রয়েছে ৷৷

🍂নাসিরুদ্দিন আলবানী রহ. বলেন, দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করার অনেক হাদিস ১০জন সাহাবী থেকে প্রমাণিত, যার তাখরীজ আমি "তালিকাতুল জিয়াদ" গ্রন্থে করেছি:--

ﻭﻣﻦ ‏( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ‏) ﻗﻮﻟﻪ : " ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ ﻓﻲ ﺃﺭﺑﻊ ﺣﺎﻻﺕ : ﺍﻷﻭﻟﻰ : ﻋﻨﺪ ﺗﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻹﺣﺮﺍﻡ . . ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ : ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻭﺍﻟﺮﻓﻊ ﻣﻨﻪ . . ﺍﻟﺮﺍﺑﻌﺔ : ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻘﻴﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺮﻛﻌﺔ ﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ " .

ﻗﻠﺖ ‏[ ﺃﻱ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ‏] : ﻗﺪ ﺛﺒﺖ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻜﺒﻴﺮﺍﺕ ﺍﻷﺧﺮﻯ ﺃﻳﻀﺎ ﺃﻣﺎ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻬﻮﻱ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ ﻭﺍﻟﺮﻓﻊ ﻣﻨﻪ ﻓﻔﻴﻪ ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ ﻛﺜﻴﺮﺓ ﻋﻦ ﻋﺸﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻗﺪ ﺧﺮﺟﺘﻬﺎ ﻓﻲ " ﺍﻟﺘﻌﻠﻴﻘﺎﺕ ﺍﻟﺠﻴﺎﺩ " ﻣﻨﻬﺎ ﻋﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﻮﻳﺮﺙ ﺃﻧﻪ ﺭﺃﻯ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ ﻓﻲ ﺻﻼﺗﻪ ﺇﺫﺍ ﺭﻛﻊ ﻭﺇﺫﺍ ﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻭﺇﺫﺍ ﺳﺠﺪ ﻭﺇﺫﺍ ﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ ﺣﺘﻰ ﻳﺤﺎﺫﻱ ﺑﻬﻤﺎ ﻓﺮﻭﻉ ﺃﺫﻧﻴﻪ .

ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﺑﻦ ﺣﺰﻡ ﺑﺴﻨﺪ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﻋﻮﺍﻧﺔ ﻓﻲ " ﺻﺤﻴﺤﻪ " ﻛﻤﺎ ﻓﻲ " ﺍﻟﻔﺘﺢ " ﻟﻠﺤﺎﻓﻆ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ : " ﻭﻫﻮ ﺃﺻﺢ ﻣﺎ ﻭﻗﻔﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ " .

[আলবানী'র তা'লিকাতুল জিয়াদ গ্রন্থে, আলবানী'র তামামুল মিন্নাহ ফিত তা'লিক ফিকহুস সুন্নাহ-১৭২ পৃষ্টা, আলবানী সিফাতু সালাতিন নাবী-১৪৬]


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كُنْتُ غُلاَمًا لاَ أَعْقِلُ صَلاَةَ أَبِي قَالَ فَحَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْ أَبِي وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ الْتَحَفَ ثُمَّ أَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ وَأَدْخَلَ يَدَيْهِ فِي ثَوْبِهِ قَالَ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ أَخْرَجَ يَدَيْهِ ثُمَّ رَفَعَهُمَا وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ سَجَدَ وَوَضَعَ وَجْهَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ أَيْضًا رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ فَقَالَ هِيَ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَهُ مَنْ فَعَلَهُ وَتَرَكَهُ مَنْ تَرَكَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هَمَّامٌ عَنِ ابْنِ جُحَادَةَ لَمْ يَذْكُرِ الرَّفْعَ مَعَ الرَّفْعِ مِنَ السُّجُودِ ‏.‏

আবূ ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করেছি।① তিনি তাকবীর বলার সময় স্বীয় দু’হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর স্বীয় হাত কাপড়ে ঢুকিয়ে ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ②তিনি রুকু’তে গমনকালে স্বীয় দু’হাত বের করে উপরে উঠাতেন এবং ③রুকু’ থেকে মাথা উঠানোর সময়ও দু’হাত উপরে উঠাতেন। তারপর সাজদাহ্‌তে স্বীয় চেহারা দু’ হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে রাখতেন। ④অতঃপর সাজদাহ্‌ থেকে মাথা উত্তোলনের সময়ও দু’হাত উত্তোলন করতেন। এরূপে তিনি তাঁর সলাত শেষ করতেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বলেন, আমি হাসান ইবনু হাসানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাত আদায়ের পদ্ধতি এরূপই ছিল। যে লোক এর অনুসরণ করেছে- সে তো করেছে আর যে তা বর্জন করেছে-সে তো তা বর্জন করেছে।

সহীহ।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৭২৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

🍂 অন্য সনদের অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে হাম্মাদ এর বর্ননাতে দুই সিজদার মাঝে রফুল ইয়াদাইনের কথা নাই ৷৷ কিন্তু সেটা অন্য সনদ, আর এটা ইবনে জুহাদাহ থেকে ওয়ায়েল বিন হুজরের রাঃ ছেলে আব্দুল জব্বারের রহঃ বর্ণিত আরেক সনদ ৷৷

সুতরাং আলাদা আলাদা সনদ হওয়ার কারণে হাম্মাদের সনদে না থাকাটা আব্দুল জব্বারের সনদে থাকার উপরে প্রভাব বিস্তার করবেনা ৷৷


2434 - حَدَّثَنَا الثَّقَفِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ»

আনাস রাঃ বলেন, রাসুলুল্লাহ সঃ রুকুতে এবং সিজদাতেও রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷ (ইবনে আবি শাইবা: ২৪৩৪)


101 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ , حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: «رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَرْفَعُ يَدَيْهِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ» .

 قَالَ الْبُخَارِيُّ: " وَحَدِيثُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْلَ

ইয়াহইয়া বিন আবু ইসহাক রহঃ বলেন:— আমি আনাস বিন মালেক রাঃ কে দেখেছি তিনি দুই সিজদার মাঝখানে রফউল ইয়াদাইন করলেন ৷৷

ইমাম বুখারী রহঃ বলেন— এই দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন রাসুলুল্লাহর সঃ প্রথম জীবনের আমল ৷৷ (জুজউর রফুল ইয়াদাইন, হা/১০১, ইবনে আবি শাইবা, হা/২৭৯৫ )

🍂অর্থাৎ দুই সিজদার মাঝে রফুল ইয়াদাইন যে প্রমাণিত আমল ছিলো, এটা ইমাম বুখারীও স্বীকার করেছেন ৷৷


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ نُبَاتٍ ثِنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ الْبَاجِيَّ ثِنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ ثِنَا الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ ثِنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ ثِنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيُّ قَالَ: رَأَيْت طَاوُسًا وَنَافِعًا مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، قَالَ حَمَّادٌ: وَكَانَ أَيُّوبُ يَفْعَلُهُ

আইয়ূব আসসাখতিয়ানী (৬৬-১৩১হি) রহঃ বলেন:—

আমি তাবেঈ তাউস, নাফে রহঃ কে দেখেছি তাদের মাওলা বা উস্তাদ ইবনে ওমর রাঃ দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷

[ইবনে হাযম, আল-মুহাল্লা, মাসয়ালা নং-৪৪২]


5831 - كَمَا حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي كُلِّ خَفْضٍ، وَرَفْعٍ، وَرُكُوعٍ، وَسُجُودٍ وَقِيَامٍ، وَقُعُودٍ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، وَيَزْعُمُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ "

ইবনে ওমর রাঃ প্রত্যেক উঠানামার সময়েই রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷ রুকুতে, সিজদাতে,দাড়ানোবস্থায় এবং দুই সিজদার মাঝখানেও রফউল ইয়াদাইন করতেন আর বলতেন এটাই রাসুলুল্লাহ সঃ এর স্বালাত ছিলো ৷৷ ( মুশকিলিন আছার তহাবী, হা/৫৮৩১)


2796 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: نا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الْأُولَى»

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ প্রথম সিজদা থেকে মাথা তুললেই রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷৷ (ইবনে আবি শাইবাঃ ২৭৯৬)


ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻲ ﺟﺰﺀ " ﺭﻓﻊ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ " ‏( ﺹ 7 ‏) ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﺳﺎﻟﻢ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻥ ﺃﺑﺎﻩ ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ ﻭﺇﺫﺍ ﺃﺭﺍﺩ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻡ ﺭﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ .

ﻭﺳﻨﺪﻩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ .

ﻭﻋﻤﻞ ﺑﻬﺬﻩ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ ﻛﻤﺎ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻷﺛﺮﻡ ﻭﺭﻭﻱ ﻋﻦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﻪ ﻭﻫﻮ ﻣﺬﻫﺐ ﺍﺑﻦ ﺣﺰﻡ ﻓﺮﺍﺟﻊ " ﺍﻟﻤﺤﻠﻰ " .

ইমাম বুখারী রহ. লিখেছেনঃ সালেম বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তার পিতা যখন সিজদা থেকে মাথা তুলতেন তখন রফউল ইয়াদাইন করতেন এবং দুই সিজদার পর দাড়িয়ে রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷

এই সুন্নাতের উপর আমল করেছেন ইমাম আহমাদ রহ.। এটা শাফেয়ী রাহ. এক রেওয়ায়াত ও ইবনে হাযম রাহ. এর মাজহাব ৷

[দেখুন- আল-মুহাল্লা, মাসয়ালা-৪৪২]


.

এছাড়াও সাহাবী ইবনে আব্বাস রাঃ এবং তাবেঈ আত্বা রহঃ, নাফেও দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করতেনঃ—

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ نُبَاتٍ ثِنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْبَصِيرِ ثِنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ثِنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ الْخُشَنِيُّ ثِنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ثِنَا أَبُو سَهْلٍ النَّضْرُ بْنُ كَثِيرٍ السَّعْدِيُّ قَالَ: صَلَّى إلَى جَنْبِي ابْنُ طَاوُسٍ فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ بِمِنًى، فَكَانَ إذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ السَّجْدَةِ الْأُولَى رَفَعَ يَدَيْهِ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ، فَأَنْكَرْت ذَلِكَ، وَقُلْت لِوُهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ: إنَّ هَذَا يَصْنَعُ شَيْئًا لَمْ أَرَ أَحَدًا يَصْنَعُهُ؟ فَقَالَ ابْنُ طَاوُسٍ: رَأَيْت أَبِي يَصْنَعُهُ، وَقَالَ لِي: رَأَيْت عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ يَصْنَعُهُ

 

حَدَّثَنَا حَمَامٌ ثِنَا ابْنُ مُفَرِّجٍ ثِنَا ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ ثِنَا الدَّبَرِيُّ ثِنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجِ: قُلْت لِعَطَاءٍ: رَأَيْتُك تُكَبِّرُ بِيَدَيْك حِينَ تَسْتَفْتِحُ، وَحِينَ تَرْكَعُ وَحِينَ تَرْفَعُ رَأْسَك مِنْ الرَّكْعَةِ، وَحِينَ تَرْفَعُ رَأْسَك مِنْ السَّجْدَةِ الْأُولَى، وَمِنْ الْآخِرَةِ، وَحِينَ تَسْتَوِي مِنْ مَثْنًى؟ قَالَ: أَجَلْ.

[ইবনে হাযম, মাসয়ালা নং-৪৪২, অধ্যায়ঃ সালাত, পরিচ্ছেদঃ রুকু-সিজদার সময়ে রফয়ে ইয়াদাইন করা]


2797 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ:: نا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ: «رَأَيْتُ نَافِعًا، وَطَاوُسًا، يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا بَيْنَ السَجْدَتَيْنِ»

নাফে এবং তাউস রহঃ দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷(ইবনে আবি শাইবা: ২৭৯৭)


2798 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، وَابْنِ سِيرِينَ، «أَنَّهُمَا كَانَا يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا بَيْنَ السَجْدَتَيْنِ»

হাসান বসরী ও ইবনে সীরিন রহঃ দুই সিজদার মাঝে রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷ (ইবনে আবি শাইবা: ২৭৯৮)

 


🍀👉অর্থাৎ—নামধারী আহলে হাদীসরা মুখে মুখে হাদীস মানার দাবী করলেও প্রতিটি তাকবীরের সাথেই রফউল ইয়াদাইন এবং দুই সিজদার মাঝের রফুল ইয়াদাইন করার হাদীসগুলো মানছেনা ৷৷ এক্ষেত্রে তারাও বলে—দুই সিজদার মাঝের রফুল ইয়াদাইন এবং প্রতিটি তাকবীরের সাথেই রফউল ইয়াদাইন মানসুখ বা মুনকার ৷ যদিও সহীহ শাহেদ হাদীস এবং রাসুলুল্লাহর সঃ সাথে সাথে সাহাবীদেরও আমলের সহীহ হাদীসগুলো থাকার পরেও তাদের মুনকার শব্দের ব্যবহার হাস্যকর ৷৷

 ↓

💝🌻💝রাসুলুল্লাহ সঃ তাকবীরে তাহরিমা ও শুধুমাত্র রুকুতেই রফউল ইয়াদাইন করতেন—সেই রকমেরও কিছু দলীল পাওয়া যায় ৷৷


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ وَإِذَا رَكَعَ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শুরু করার সময় এবং রুকূ‘ যাওয়ার সময় তাঁর দু’হাত (উপরে) উঠাতেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৬৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا ابْتَدَأَ الصَّلاَةَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ ‏.‏ 

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সলাত আরম্ভের সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং রুকু হতে মাথা উঠাবার সময় দু’ হাত একটু কম উপরে উঠাতেন

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৭৪২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


🍂এই হাদীস দুইটা থেকে বুঝা যায়—পরবর্তীতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে, সিজদায় যাওয়ার সময়ে, দুই সিজদার

মাঝে, সিজদা থেকে দাড়িয়ে ইত্যাদি সব ধরণের আমলগুলো বর্জিত হয়েছিলো, অার শুধুমাত্র রুকুতে যাওয়ার সময়কার রফউল ইয়াদাইনটাই চালু ছিলো ৷৷

↓↓↓

  ↓

💝🍀🌻🍀💝 শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরিমা ছাড়া অন্য কোথাও রফউল ইয়াদাইন না করার বিষয়ে দলীলসমূহঃ—

💝🍀💝ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে মারফূভাবেঃ—

18 قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ وَالْأَسْوَدِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِلَّا عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، وَلَا يَعُودُ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ» ،

 فَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: أُحَدِّثُكَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَتَقُولُ: حَدَّثَنِي حَمَّادٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ! فَقَالَ لَهُ أَبُو حَنِيفَةَ: كَانَ حَمَّادٌ أَفْقَهَ مِنَ الزُّهْرِيِّ، وَكَانَ إِبْرَاهِيمُ أَفْقَهُ مِنْ سَالِمٍ، فَسَكَتَ الْأَوْزَاعِيُّ

ইমাম আবু হানিফা রহ বলেনঃ- (তার উস্তাদ) হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম নাখাঈ থেকে, তিনি আলকামা এবং আসওয়াদ থেকে, তারা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে ৷৷ 

ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন:- ««রাসুলুল্লাহ সঃ শুধুমাত্র সালাতের শুরুতে ব্যতিত আর কোথাও পুনরায় সালাতের শুরুর অনুরুপ রফউল ইয়াদাইন করতেন না»» ৷

তখন আওযায়ী রহঃ বললেন, আমি তো হাদীস পেয়েছি যুহরী থেকে, সালেম থেকে, তার পিতা থেকে(যে রাসুলুল্লাহ সঃ রুকুতে যেতে এবং রুকু থেকে দাঁড়িয়ে রফউল ইয়াদাইন করতেন)! আর আপনি হাদীস পেয়েছেন হাম্মাদ থেকে ইব্রাহিম নাখাঈ থেকে!!??

ইমাম আবু হানিফা রহঃ বললেন:- হাম্মাদ রহঃ যুহরী রহঃ এর চাইতে বিজ্ঞ ছিলেন ৷ এবং ইব্রাহিম নাখায়ী রহ: সালেম রহঃএর চেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন ৷.. অতপর ইমাম আওযায়ী রহঃ নীরব হয়ে গেলেন ৷৷

(মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা, হা/১৮)


أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ: «أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلَّا مَرَّةً وَاحِدَةً»

.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)তিনি বলেন, 

আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবো না? এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি একবারের অধিক রফউল ইয়াদাইন করেন নি।

.

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১০৫৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ ‏.‏ 

‘আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,

 ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (নিয়মে) নামায আদায় করে দেখাবো না? তিনি (‘আবদুল্লাহ) নামায আদায় করলেন, কিন্তু প্রথম বার (তাকবীরে তাহরীমার সময়) ছাড়া আর কোথাও রফউল ইয়াদাইন করেননি।

সহীহ্। সিফাতুস সালাত, মূল-মিশকাত-(৮০৯)।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৫৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


2534 - قَالَ الشَّيْخُ: وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: " صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمْ يَرْفَعُوا أَيْدِيَهُمْ إِلَّا عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ

ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন:- আমি রাসুলুল্লাহ সঃ, আবু বকর রাঃ এবং ওমর রাঃ এর পিছনে সালাত আদায় করেছি, তারা সালাতের শুরুতে ব্যতিত আর রফউল ইয়াদাইন করেন নি ৷৷ (বায়হাকী, কুবরা- হা/২৫৩৪)