১. বইটির লেখকের নাম কী?
উত্তর: আবু মুয়াবিয়া ইสมাইল কামদার।
২. ইসলামী দৃষ্টিতে সময়কে কী হিসেবে গণ্য করা হয়?
উত্তর: সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি 'রিযক' এবং আমানত।
৩. সময়ের দুটি অনন্য বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: ১. প্রতিদিন সবার জন্য নির্ধারিত সময়ের পরিমাণ একই এবং ২. সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না।
৪. ইমাম ash শাফিয়ী (রহ.) সময় সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি বলেছেন, “সময় হলো তরবারির মতো; তুমি যদি তাকে ব্যবহার না করো, সে-ই তোমাকে ব্যবহার করবে”।
৫. পরকালে সময়ের ব্যাপারে আমাদের দায়বদ্ধতা কেমন?
উত্তর: প্রতিটি ঘণ্টার ব্যবহারের জন্য আল্লাহর কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
৬. টাইম ম্যানেজমেন্টের প্রথম ধাপ কোনটি?
উত্তর: একটি লক্ষ্য নিয়ে বাঁচা।
৭. আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?
উত্তর: আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
৮. S.M.A.R.T লক্ষ্যের পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Specific (সুনির্দিষ্ট), Measurable (পরিমাপযোগ্য), Attainable (অর্জনযোগ্য), Realistic (বাস্তবসম্মত) এবং Timely (সময়মাফিক)।
৯. জীবনের কেন্দ্রবিন্দু কী হওয়া উচিত?
উত্তর: আমাদের জীবন ও আদর্শ হওয়া উচিত আল্লাহকেন্দ্রিক।
১০. সালাত ও টাইম ম্যানেজমেন্টের সম্পর্ক কী?
উত্তর: দৈনন্দিন রুটিন সালাতকে কেন্দ্র করে সাজাতে হবে, রুটিনের ভেতর সালাতকে জোর করে ঢোকানো যাবে না।
১১. 'বারাকাহ' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সাধারণভাবে যা পাওয়ার কথা, তার চেয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু পাওয়া।
১২. সময়ের বারাকাহ পাওয়ার প্রাথমিক উপায় কী?
উত্তর: আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং লক্ষ্যগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারণ করা।
১৩. কোন কাজের মাধ্যমে সম্পদে ও সময়ে বারাকাহ আসে?
উত্তর: দান বা সাদাকাহ করার মাধ্যমে।
১৪. দিনের কোন সময়টি সবচেয়ে বেশি বারাকাহময়?
উত্তর: ভোরবেলা বা দিনের শুরুর সময়টি।
১৫. দোয়ার মাধ্যমে কি সময়ের বারাকাহ পাওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সময়ের বারাকাহ প্রার্থনা করা জরুরি।
১৬. 'ইঁদুর দৌড়' বা 'তাকাসুর' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: লক্ষ্যহীনভাবে শুধু প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে রোবটের মতো কাজ করে যাওয়া।
১৭. ৮০/২০ নীতি (80/20 Principle) কী?
উত্তর: আমাদের ২০ ভাগ কাজ থেকে ৮০ ভাগ ফলাফল আসে, তাই সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।
১৮. 'মুহাসাবাহ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আত্ম-পর্যবেক্ষণ বা নিজের প্রতিদিনের কাজের হিসাব নিজেই নেওয়া।
১৯. টাইম ম্যানেজমেন্টের তিনটি কার্যকর পদ্ধতি কী কী?
উত্তর: সাপ্তাহিক পরিকল্পনা, টু-ডু লিস্ট এবং হাইব্রিড বা মিশ্র পদ্ধতি।
২০. টু-ডু লিস্ট তৈরি করতে কত সময় লাগে?
উত্তর: মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো।
২১. অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কী কী?
উত্তর: ধর্মীয়, ক্যারিয়ার, পারিবারিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত।
২২. জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাট্রিক্সের চারটি ভাগ কী কী?
উত্তর: ১. জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ, ২. জরুরি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয়, ৩. জরুরি নয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪. জরুরিও নয় গুরুত্বপূর্ণও নয়।
২৩. কোন ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভুল?
উত্তর: শুধু 'জরুরি' কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভুল, কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অবহেলিত হয়।
২৪. ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য প্রতিদিন কতটুকু সময় রাখা উচিত?
উত্তর: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় রাখা উচিত।
২৫. পারিবারিক ক্ষেত্রে সন্তানদের জন্য লেখকের পরামর্শ কী?
উত্তর: প্রতিদিন সন্ধ্যার পর অন্তত এক ঘণ্টা সময় সন্তানদের জন্য রাখা।
২৬. গড়িমসি (Procrastination) করার মূল চারটি কারণ কী কী?
উত্তর: ১. লক্ষ্যের অভাব, ২. ধোঁকা (পরে করার মানসিকতা), ৩. অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা এবং ৪. তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পেতে চাওয়া।
২৭. গড়িমসি দূর করার প্রধান উপায় কী?
উত্তর: আজকেই কাজ শুরু করে দেওয়া এবং বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা।
২৮. একটি নতুন অভ্যাস গড়ে উঠতে গড়ে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: গড়ে ৩০ দিন সময় লাগে।
২৯. বড় কাজকে ছোট করার উপকারিতা কী?
উত্তর: এতে কাজের চাপ ও সময় কম লাগে এবং কাজটি মানসম্মত হয়।
৩০. একাগ্রতা বৃদ্ধির সর্বোত্তম ইসলামী পদ্ধতি কোনটি?
উত্তর: খুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায় করা; সালাতের এই একাগ্রতা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।
৩১. বদঅভ্যাস ত্যাগের ক্ষেত্রে ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর পরামর্শ কী?
উত্তর: নেতিবাচক ও মন্দ ভাবনার বিরুদ্ধে শুরুতেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো, যাতে সেগুলো সংকল্পে পরিণত হতে না পারে।
৩২. ডেইলি রিমাইন্ডার হিসেবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে?
উত্তর: পোস্ট-ইট নোট, মোবাইলের অ্যাপ অথবা ডায়েরি।
৩৩. 'বার্নআউট' (Burnout) কেন হয়?
উত্তর: সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা নিজের কাঁধে নিলে বার্নআউট বা মানসিক অবসাদ তৈরি হয়।
৩৪. বার্নআউট এড়ানোর সহজ উপায় কী?
উত্তর: সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত কাজকে ভদ্রভাবে 'না' বলতে শেখা এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়া।
৩৫. টাইম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে 'সবর' বা ধৈর্যের গুরুত্ব কী?
উত্তর: লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা আসবেই, সেই বাধা ডিঙিয়ে লক্ষ্যে অবিচল থাকাই হলো সবর।
৩৬. আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বা self-control বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: অহেতুক সময় নষ্ট করার ইচ্ছা জাগলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে কাজে মনোযোগী হওয়া।
৩৭. ধারাবাহিকতা বা consistency কেন জরুরি?
উত্তর: নিয়মিত অল্প কাজ করা পাহাড়সম অনিয়মিত কাজের চেয়ে উত্তম এবং এটিই সফলতার চাবিকাঠি।
৩৮. ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঠিক নিয়ম কী?
উত্তর: দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো চেক করা এবং বারবার নোটিফিকেশন দেখে সময় নষ্ট না করা।
৩৯. ফোন কলের বিরক্তিকর প্রভাব কীভাবে কমানো যায়?
উত্তর: খুব জরুরি কাজ থাকলে ফোন সাইলেন্ট রাখা এবং কল না করে ইমেইল বা মেসেজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
৪০. কাজের পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: কাজের জায়গা হতে হবে গোছানো এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসমুক্ত।
৪১. মাল্টি-টাস্কিং সম্পর্কে আধুনিক গবেষণার ফল কী?
উত্তর: মাল্টি-টাস্কিং কাজের গুণমান ও প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দেয়, তাই এক সময়ে একটি কাজ করাই ভালো।
৪২. অতিরিক্ত কাজের বোঝা কমানোর একটি উপায় কী?
উত্তর: সব কাজ নিজে না করে অন্যকে দিয়ে করানো বা 'Delegation'।
৪৩. 'দুই মিনিট রুল' (2-minute rule) কী?
উত্তর: কোনো কাজ করতে যদি দুই মিনিট বা তার কম সময় লাগে, তবে তা জমিয়ে না রেখে সাথে সাথে করে ফেলা।
৪৪. কম্পিউটারের শর্টকাট ব্যবহারের সুবিধা কী?
উত্তর: এটি কাজকে অনেক দ্রুত করে এবং দিনে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় বাঁচাতে পারে।
৪৫. নিজের সময়ের 'মূল্য' কীভাবে নির্ধারণ করা যায়?
উত্তর: প্রতিদিনের আয়কে কর্মঘণ্টা দিয়ে ভাগ করে এক ঘণ্টার আর্থিক মূল্য বের করা; এতে সময় নষ্ট করার আগে সচেতনতা বাড়ে।
৪৬. সুস্বাস্থ্যের জন্য লেখকের তিনটি প্রধান পরামর্শ কী কী?
উত্তর: প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা, পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।
৪৭. দিনের শুরুতে বারাকাহ পাওয়ার প্রধান মাধ্যম কী?
উত্তর: ফজরের সালাত সময়মতো আদায় করা এবং দিনের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা।
৪৮. দান বা সাদাকাহ কীভাবে সময়ের বারাকাহ বাড়ায়?
উত্তর: অন্যদের পেছনে সময় ও সম্পদ ব্যয় করলে আল্লাহ আপনার নিজের কাজে বারাকাহ দান করেন।
৪৯. খারাপ দিনগুলোতে টাইম ম্যানেজমেন্টের উপায় কী?
উত্তর: মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দিনে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ খুঁজে বের করা এবং সেগুলো সম্পন্ন করা।
৫০. বইটির সারকথা বা লেখকের শেষ উপদেশ কী?
উত্তর: নিজের লক্ষ্যকে উঁচু করা, অতীতের সাফল্য বা ব্যর্থতায় আটকে না থেকে বর্তমানে কাজ করে যাওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।