যে চারটি কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি হচ্ছে ।
 |
| এডিট করা ছবি |
আসসালামু আলাইকুম ওরহমাতুল্লাহ ওয়াবরাকাতু ।
সম্মানিত পাঠক !
শেখ হাসিনার ফাঁসি যে চারটি কারণে হচ্ছে , তা নিয়ে আমরা আজ বিশ্লেষণ করবো।
প্রথমে একটি হাদিসের কথা স্মরণ করছি ,হাদিসে এসেছে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْوَالِدِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ " . - حسن
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির দু’আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়ঃ (এক) পিতা-মাতার দু’আ, (দুই) মুসাফিরের দু’আ, (তিন) মজলুমের দু’আ।[1]
হাদিসটির মান হাসান।
1- বুখারী (অধ্যায় : আদাব, অনুঃ পিতা-মাতার দু‘আ, হাঃ ৩২), তিরমিযী (অধ্যায় : বির ওয়াস সিলাহ, অনুঃ মা-বাবার দু‘আ, হাঃ ১৯০৫), আহমাদ (হাঃ ৭৫০১)।
এই হাদীসে তিন নাম্বারে এসেছে মজলুম ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। অপর এক হাদীসে এসেছে মজলুম ব্যাক্তি দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না। নবী (সা.) মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, "মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করো, কারণ তার ফরিয়াদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না" (সহিহ বুখারি: ২৪৪৮)।
হাদিসের এই শব্দের ("কারণ তার ফরিয়াদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না " )অর্থ খুব গভীর । সাধারণত কোন কিছু আড়াল করার জন্য আমরা পর্দা দিয়ে ঢেকে দেই। আর কেউ কোন কিছু চাইলে আমরা বলি অবশ্যই দিব অথবা দিবোনা। পর্দার প্রসঙ্গটা আসে না।অথচ হাদিসে এটাই আসলো । এতে বুঝা যায় মজলুম ব্যক্তির সাথে যা ঘটেছে আল্লাহ তাআলা নিজেই তা দেখছেন তা কোন পর্দর আড়ালে ঘটে নি। সে দোয়া না করলেও আল্লাহ তাআলা তার বিচার অবশ্যই করবেন, যদি সে তাকে ক্ষমা না করে থাকে। আর সে যদি দোয়া করে তাহলে তা কত দ্রুত কবুল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউসুফ আ, এর ভাইয়েরা যখন তাকে কূপে নিক্ষেপ করল তখন মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে জিব্রাইল এসে উপস্থিত হলেন। আর তাকে পানিতে পড়া থেকে রক্ষা করলেন ।
শেখ হাসিনা যে অত্যাচারী শাসক ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শত শত মাজলুম আলেম, এতিম শিশু ও বিধবা নারী এবং জনসাধারণের ফরিয়াদ আল্লাহ তায়ালা কবুল করলেন। আমিও জানতাম এমন কিছু হবে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হবে সেটা আমি কল্পনাও করিনি। সুবহানাল্লাহ।
অতএব আমরা বুঝতে পারলাম।
প্রথম কারণ হলো মাজলুমদের ফরিয়াদ:
দ্বিতীয় কারণ :
মাজলুম ব্যক্তি তখনই দোয়া করেন যখন সে জালেম থেকে প্রতিশোধ নিতে অক্ষম । এমনকি তার কাছের আত্মীয়-স্বজন থেকেও সে কোন ভরসা পান না, তখন সে এতটাই নিঃস্ব , নিরুপায় হয়ে যায় যে এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে সে কল্পনা করতে পারে না। এহেন পরিস্থিতিতে সে যদি অমুসলিম ও হয় , কনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহকে ডাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَاِذَا رَکِبُوۡا فِی الۡفُلۡکِ دَعَوُا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۚ فَلَمَّا نَجّٰہُمۡ اِلَی الۡبَرِّ اِذَا ہُمۡ یُشۡرِکُوۡنَ ۙ
তারা যখন নৌকায় চড়ে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। তারপর তাদেরকে উদ্ধার করে যখন স্থলে নিয়ে আসেন, অমনি তারা শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
—আল আনকাবুত - ৬৫।
এক্ষেত্রে কাফেরদের দোয়া কবুল হওয়ার কারণ হলো : সে এই মুহূর্তে আল্লাহর পরিচয় পেয়ে যায়। যখন কোন বান্দা আল্লাহর পরিচয় পেয়ে যায়, আল্লাহকে না দেখেও বিশ্বাস করে খাঁটি মনে। তখন আল্লাহ তার কথা শুনে এবং তার দোয়া কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে : আল্লাহ তাআলা বলেন-
( وَلَئِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ )
অর্থ- "যদি সে আমার নিকট কোন কিছু প্রার্থনা করে আমি তাকে সেটা দান করি। যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় আমি তাকে আশ্রয় দান করি । মাজমু' ফাওয়া (২/৩৭১, ৩৭২)
তৃতীয় কারণ:
যারা মাজলুম তারা স্বাভাবিকভাবে দাম্ভিক ও অহংকারী হয়। তারা মনে করে তাদের কর্মের শাস্তি কেউ দিতে পারবে না । কেননা তাদের ধারণা তারা যা করছে তা অন্যায় নয়। বরং ভালো কাজ।আল্লাহ তাআলা বলেন:
اَلَّذِیۡنَ ضَلَّ سَعۡیُہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَہُمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ یُحۡسِنُوۡنَ صُنۡعًا
তারা সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সমস্ত দৌড়-ঝাঁপ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, অথচ তারা মনে করে তারা খুবই ভালো কাজ করছে।
—আল কাহ্ফ - ১০৪।
অহংকার শুধুমাত্র আল্লাহর পোশাক। আল্লাহ তাআলা বলেন:
ইজ্জত-সম্মান হচ্ছে আমারই পোশাক এবং গর্ব-অহংকার হচ্ছে আমারই চাদর। তাই যে ব্যক্তি এ দুয়ের কোনোটি নিয়ে টানাটানি করবে, তাকে আমি কঠোর শাস্তি দেবো।'" (সহীহ মুসলিম)
তাই আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন , তাদের ভুল ধারণা যেন ভেঙ্গে যায় । কেননা অহংকার বড়ত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য শোভা পায়। মানুষের জন্য নয় কোন।
চতুর্থ কারণ:
সবকিছুর একটা সীমা আছে ।বান্দা কোন অপরাধ করলে সাথে সাথে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেন না কিন্তু যখন সে ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে ফেলে তখনই তাকে শাস্তি দেন।
তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেনা। সূরা বাকারা ১৯০ নম্বর আয়াত।
শেখ হাসিনা পাপের সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। তার জুলুম অত্যাচারে নির্যাতিত হয়েছে বছর পর বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ।
তার জুলুমের চিত্র আমি এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে তুলে ধরেছি না।
সুতরাং আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত: ক্ষমতার চিরকাল থাকবে না ।জুলুমের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে।
প্রত্যেক জিনিসের একটা উত্থান থাকে এরপর শুরু হয় তার পতনের পালা।
আমাদেরকে জুলুম অত্যাচার এবং অহংকারী হওয়া থেকে রক্ষা করুন আমীন।
0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।