ইলমি মতভেদ না ফেতনা? কথিত আহলে হাদিসদের বিভ্রান্তির বাস্তব চিত্র

ইলমি মতভেদ না ফেতনা? কথিত আহলে হাদিসদের বিভ্রান্তির বাস্তব চিত্র।

ছবি সংগৃহীত 


আমাদের দেশে বর্তমানে ধর্মীয় বিভিন্ন মাসয়ালা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আহলে হাদিস নামধারী কিছু লোক সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ফেতনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উপস্থাপিত বিভ্রান্তিকর মতবাদগুলো এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন সাধারণ মানুষও সহজেই এসব অসঙ্গতি ধরতে পারছে। 

  উদাহরণস্বরূপ—তারা একদিকে বলে, সদকাতুল ফিতর অবশ্যই খাদ্য দিয়ে আদায় করতে হবে, টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে না। অথচ তারাই আবার সদকাতুল ফিতরের নামে বিকাশ নম্বর প্রকাশ করে টাকা পাঠানোর আহ্বান জানায়। বিষয়টি কি চরম হাস্যকর হয়ে গেল না? 😀

 আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় কোরবানির মাসয়ালায়। তাদের এক শায়েখ ফতোয়া দেন যে, মহিষ দিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে না। আবার তাদেরই আরেক শায়েখ সেই ফতোয়ার খণ্ডন করে বলেন, মহিষ মূলত গরুরই একটি প্রকার, সুতরাং তা দিয়ে কোরবানি বৈধ। অর্থাৎ একজনের ফতোয়া আরেকজন এসে বাতিল করে দেন। একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা যায় জুমার দিনের আজান নিয়ে। তাদের এক শায়েখ বলেন, জুমার দিনে একের অধিক আজান দেওয়া বিদআত। আবার অপর শায়েখ বলেন, দুই আজান দেওয়াই সুন্নত। প্রশ্ন হলো—কোনটি গ্রহণ করবে সাধারণ মানুষ? তারা আরও বলে, সুর দিয়ে ওয়াজ করা জায়েজ নয়, অথচ সেই একই বক্তা নিজেই সুর করে ওয়াজ করেন। এভাবে এক শায়েখের কথা আরেক শায়েখ ভুল প্রমাণ করেন। এই ধারাবাহিক অসঙ্গতি থেকেই খুব সহজেই বোঝা যায়—কোরআন ও হাদিস বিষয়ে তাদের যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা আসলে কতটা গভীর।

 অথচ বাস্তবতা হলো, এ ধরনের এলমি আলোচনা ও ইখতিলাফ যুগ যুগ ধরে আলেমদের মধ্যেই হয়ে আসছে। আলেমদের মধ্যে মতভেদ, তর্ক-বিতর্ক থাকলেও তা সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হতো না। কারণ তারা জানতেন—সাধারণ মানুষ এসব সূক্ষ্ম ইলমি পার্থক্য বুঝতে সক্ষম নয়। কিন্তু এই কথিত আহলে হাদিসরা আলেমদের মধ্যকার ইলমি মতভেদকে প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামকে মানুষের সামনে এক বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এর ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ—সাধারণ মানুষ ইসলামের প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করে। এটাই বাস্তবতা। কারণ সাধারণ মানুষ মনে করে, কোরআন ও হাদিসের মধ্যেই বুঝি সমস্যা রয়েছে। অথচ তাদের জ্ঞান ও যোগ্যতা নেই এসব বিষয়কে পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে বোঝার। আলেমদের দায়িত্ব ছিল এই সামঞ্জস্য তুলে ধরা, বিভ্রান্তি দূর করা। কিন্তু তারা উল্টো সাধারণ মানুষকে এই বিতর্কে জড়িয়ে দিয়ে একটি বড় ধরনের অন্যায় করেছে। ইলমি মতভেদকে ফেতনায় রূপান্তর করা—এর চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে? 

আরো পড়ুন আমরা কোরআন হাদিস মানে এই দাবির বাস্তবতা

সামনে রমজান মাস আসছে এই উপলক্ষে তাদের অনেকগুলো ফেতনার জোয়ার বইবে। যেমন তারাবির নামাজ বিশ রাকাত নাকি আট রাকাত? সদকাতুল ফিতর খাদ্য দিয়ে আদায় করবে নাকি টাকা দিয়ে ? রমজান মাসে ফজরের নামাজ সেহরি খেয়ে পড়ে আর অন্য মাসে সূর্য উঠার বিশ মিনিট আগে পড়ে। এইটা নিয়ে তাদের বিভ্রান্তির শেষ নেই। তাদের আপত্তি ! সময়ের ব্যবধানে হাদিসের হুকুম কিভাবে পরিবর্তন হয়ে যায় ? হানাফিরা সুবিধাবাদী। ঘুম যাওয়ার জন্য আগেভাগে নামাজ পড়ে নেয়। নিজের মন মতো করে আমল করা; আরো কথা আপত্তি ওরা করতে জানে ‌। এর কোন ইয়ত্তা নেই। অথচ বিষয়টা একেবারেই সহজ। সুবহে সাদিকের দিকের পর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত ফজরের নামাজের সময়। এই সময়ের মধ্যে নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যাবে এতে কারো আপত্তি নেই। তাদের দাবি হলো খুব ভোররাতে পড়া উত্তম। আমরা হাদিসগুলো লক্ষ্য করে দেখতে পাই। 

আল্লাহর রাসূল কখনো খুব ভোররাতে ফজরের নামাজ পড়তেন। আবার কখনো সকালবেলা আলোকিত হলে সূর্য উঠার আগে পড়তেন। দুই দিকের হাদিসই সহি। এজন্য হানাফি মাজহাবের আলেমগণ মনে করেন যে সময় পড়লে জামাতে মানুষ বেশি হবে ওই সময়ে পড়া উত্তম। তাই এই সময় পড়া উত্তম। আর অন্য সময় মানুষকে ঘুম থেকে দেরিতে ওঠে তাই সূর্য ওঠার আগে জামাত করলে লোকজনের সংখ্যা বেশি হবে। এইজন্য এই সময় পড়াকে উত্তম মনে করেন। ঠিক তেমনিভাবে আসরের নামাজে হানাফি কোন বিলম্বে পড়েন। আজকের আলোচনায় আমি ফজর এবং আসরের নামাজের মুস্তাহাব ওয়াক্ত নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহর রাসূল বলেন:

রাফি' বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "তোমরা পূর্বাকাশ পরিষ্কার হলে ফজরের সালাত পড়বে। কেননা তাতে রয়েছে অধিক পুরস্কার।" (তিরমিযী ১৫৪, ইবনে মাজাহ ৬৭২, তাহক্বীক আলবানী: হাসান সহীহ)।

পাঠাও আপনি এখন নিজের দলের গুলোে পড়ে দেখুন এরপর আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

📌 দলিল ও প্রমাণ


.*. বছরের অন্যান্য সময়ে দেরি করে ফজরের সালাত পড়াই বেশী উত্তমঃ-
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺍﻟﺼَّﺒَّﺎﺡِ، ﺃَﻧْﺒَﺄَﻧَﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻋُﻴَﻴْﻨَﺔَ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺠْﻼَﻥَ، ﺳَﻤِﻊَ ﻋَﺎﺻِﻢَ ﺑْﻦَ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﻗَﺘَﺎﺩَﺓَ، - ﻭَﺟَﺪُّﻩُ ﺑَﺪْﺭِﻱٌّ - ﻳُﺨْﺒِﺮُ ﻋَﻦْ ﻣَﺤْﻤُﻮﺩِ ﺑْﻦِ ﻟَﺒِﻴﺪٍ، ﻋَﻦْ ﺭَﺍﻓِﻊِ ﺑْﻦِ ﺧَﺪِﻳﺞٍ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ـ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ـ ﻗَﺎﻝَ " ﺃَﺻْﺒِﺤُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺼُّﺒْﺢِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺃَﻋْﻈَﻢُ ﻟِﻸَﺟْﺮِ ﺃَﻭْ ﻷَﺟْﺮِﻛُﻢْ " . .
রাফি' বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা পূর্বাকাশ পরিস্কার হলে ফজরের সালাত পড়বে। কেননা তাতে রয়েছে অধিক পুরস্কার অথবা বলেছেন তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক বেশি নেকী।
তিরমিযী ১৫৪, নাসায়ী ৫৪৮-৪৯, আবূ দাঊদ ৪২৪, আহমাদ ১৫৩৯২, ১৬৮০৬, ১৬৮২৮; দারিমী ১২১৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৬৭২
হাদিসের মান: হাসান সহিহ
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ,
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕُ ﺑْﻦُ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻳَﺰِﻳﺪَ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦُ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ، ‏» ﻳُﺴْﻔِﺮُ ﺑِﺼَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻐَﺪَﺍﺓِ "
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. ফজরের নামায ফর্সা করে আদায় করতেন। (মু’জামে কাবীর: ৯২৮১)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, হুকমী মারফু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবী। আল্লামা হাইসামী বলেন, এ হাদীসটি ইমাম তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীরে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই ﺛﻘﺔٌ “নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১৭৭৩, পৃষ্ঠা: ২/৬৫)
ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪِ ﺑْﻦِ ﻋُﺒَﻴْﺪٍ، ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲِّ ﺑْﻦِ ﺭَﺑِﻴﻌَﺔَ ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﻋَﻠِﻴًّﺎ، ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟِﻤُﺆَﺫِّﻧِﻪِ : ‏« ﺃَﺳْﻔِﺮْ ﺃَﺳْﻔِﺮْ ‏» ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢِ
হযরত আলী বিন রবীআহ রহ. বলেন: আমি শুনেছি হযরত আলী রা. তাঁর মুআজ্জিনকে বলছেন: ফজরের নামায ফর্সাতে পড়ো, ফর্সাতে পড়ো। (আব্দুর রযযাক: ২১৬৫)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবী।
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﺣَﻤَّﺎﺩٍ، ﻋَﻦْ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻣَﺎ ﺃَﺟْﻤَﻊَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣَﺎ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺘَّﻨْﻮِﻳﺮِ ﺑِﺎﻟْﻔَﺠْﺮِ »
হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহ. বলেন: ফজরের নামায ফর্সাতে আদায় করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম যেমন একমত হয়েছেন অন্য কোন বিষয়ে তাঁরা এমন একমত হননি। (ইবনে আবী শাইবা: ৩২৭৫)

.*. রমাজান মাসে সাহরী খাওয়ার পর পর জলদি ফজরের সালাত পড়া হলো রাসুলুল্লাহর সঃ সুন্নাহ:—
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ ﻋَﻦْ ﺳَﻬْﻞِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ ﻗَﺎﻝَ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﺗَﺴَﺤَّﺮُ ﻓِﻲ ﺃَﻫْﻠِﻲ ﺛُﻢَّ ﺗَﻜُﻮﻥُ ﺳُﺮْﻋَﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﺃُﺩْﺭِﻙَ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩَ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
সাহল ইব্নু ‘সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২০]

.*. আসরের নামায বিলম্ব করে (বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর) পড়বে
قال المشائخ: ينبغى أن لا يصلى العصر حتى يبلغ المثلين، ولا يؤخر الظهر إلى أن يبلغ المثل ليخرج من الخلاف فيها، (الحلبى الكبير، كتاب الصلاة، بحث فروع فى شرح الطحاوى-227، رد المحتار، كتاب الصلاة-1/359، البحر الرائق، كتاب الصلاة-1/425-426، حاشية الطحطاوى على الدر المختار، كتاب الصلاة-1/173)
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَنَا أُخْبِرُكَ، صَلِّ الظُّهْرَ، إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ.وَالْعَصْرَ، إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ বলেন,আমি তোমাদের জানাচ্ছি যে, যখন তোমার ছায়া তোমার সমান হয়, তখন যোহরের নামায পড়, আর যখন তা দ্বিগুণ হয়,তখন আসরের নামায পড়। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১২,৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-২০৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২১৭৩৪}
***তারা এসে রমজান মাসের প্রশ্ন করবে 
রমাজান মাসে সাহরী খাওয়ার পর পর জলদি ফজরের সালাত পড়া হলো রাসুলুল্লাহর সঃ সুন্নাহ:—
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ ﻋَﻦْ ﺳَﻬْﻞِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ ﻗَﺎﻝَ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﺗَﺴَﺤَّﺮُ ﻓِﻲ ﺃَﻫْﻠِﻲ ﺛُﻢَّ ﺗَﻜُﻮﻥُ ﺳُﺮْﻋَﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﺃُﺩْﺭِﻙَ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩَ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
সাহল ইব্নু ‘সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২০]
 .*. আছরের সালাত একটু দেড়ি করে পড়াই উত্তমঃ
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَشَدَّ تَعْجِيْلًا لِلظُّهْرِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ أَشَدُّ تَعْجِيْلًا لِلْعَصْرِ مِنْهُ.
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সলাত—কে তোমাদের চেয়ে বেশী আগে ভাগে আদায় করতেন। আর তোমরা ‘আসরের সলাত -কে তাঁর চেয়ে বেশী আগে আদায় কর??
(মিশকাত ৬১৯, আহমাদ ২৫৯৩৯, তিরমিযী ১৬১। সহীহ )
সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আছরের সালাত একটু দেরী করে পড়া মুস্তাহাব। কারণ উম্মে সালমা রাঃ রাসুলুল্লাহর সঃ পূর্বেই আসর তারাতারি পড়ার বিষয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ৷
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَزِينٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ - عَنِ الْحَجَّاجِ، - وَهُوَ ابْنُ حَجَّاجٍ - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ وَقْتِ الصَّلَوَاتِ فَقَالَ ‏ "‏ وَقْتُ صَلاَةِ الْفَجْرِ مَا لَمْ يَطْلُعْ قَرْنُ الشَّمْسِ الأَوَّلُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَيَسْقُطْ قَرْنُهَا الأَوَّلُ...
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, ফজরের সালাতের ওয়াক্ত সূর্যের ঊর্ধাংশের উদয় না হওয়া পর্যন্ত। যোহরের সালাতের ওয়াক্ত মধ্যাকাশ থেকে সূর্য ঢলার পর আসর না হওয়া পর্যন্ত। আসরের ওয়াক্ত সূর্য হলুদ না হওয়া এবং তার নিম্নাংশ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত। ...
(সহীহ মুসলিম, হা/১২৬৫)
সারসংক্ষেপঃ সূর্য তখনই হলুদ হওয়া শুরু হয়, যখন বস্তুর ছাড়া তার প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়
وَحَدَّثَنِي عَنْ مالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ.؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَنَا أُخْبِرُكَ «صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ، وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَالْعِشَاءَ مَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ثُلُثِ اللَّيْلِ، وَصَلِّ الصُّبْحَ بِغَبَشٍ» يَعْنِي الْغَلَسَ ( باب وقوت الصلاة)
আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ রহ. হযরত আবু হুরাইরা রা.কে নামাযের ওয়াক্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। হযরত আবু হুরাইরা রা. তাকে বললেন: যখন তোমার ছায়া তোমার সমপরিমাণ হবে তখন যোহর পড়বে। আর যখন তোমার ছায়া দ্বিগুণ হবে তখন আছর পড়বে। ......... (মুওয়াত্তা মালেক: ৯)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, হুকমী মারফু’। ইয়াযীদ বিন যিয়াদ ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর ইয়াযীদ বিন যিয়াদ ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: ৮৬৯১) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি নাসাঈ এবং তিরমিজী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামিউল উসূল: ৩২৭৪)
সারসংক্ষেপ : এ হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা রা. আছরের নামায তখন পড়তে বললেন যখন ছায়া দ্বিগুণ হয়। যার অর্থ হলো তিনগুণের মধ্যে পড়া। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোন জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হলে যোহর শেষ এবং আছর শুরু হয়।
حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ ، نَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ ، ثَنَا أَبُو عَامِرٍ ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ رَجُلٍ قَالَ : أَخَّرَ طَاوُسٌ الْعَصْرَ جِدًّا ، فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ ؟ فَقَالَ : " إِنَّمَا سُمِّيَتِ : الْعَصْرَ ؛ لِتُعْصَرَ
তাউস (রহঃ) আসরের নামাযে অনেক বিলম্ব করলেন। এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আসর এ জন্য নামকরণ করা হয়েছে যাতে নিংড়ানো হয় (শেষ বেলায় পড়া হয়)।
(সুনানে দারাকুতনী, হা/৯৮২)
.*. হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রিয় নবী ﷺ থেকে বর্ণনা:
)۱(عن ا بن عمرؓ عن رسول اللہ ۔ﷺ ۔قال: إنما أجلکم فی أجل من خلا من الأمم ما بین صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس وإنما مثلکم ومثل الیہود والنصاری کرجل استعمل عمالا فقال : من یعمل لی إلی نصف النہار علی قیراط قیراط؟ فعملت الیہود إلی نصف النہارعلی قیراط قیراط ثم قال : من یعمل لی من نصف النہارإلی صلاۃ العصر علی قیراط قیراط؟ فعملت النصاری من نصف النہار إلی صلاۃ العصر علی قیراط قیراط ثم قال من یعمل لی من صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس علی قیراطین قیراطین؟ قال : ألا فأنتم الذین یعملون من صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس علی قیراطین قیراطین‘ ألا لکم الأجر مرتین۰ فغضبت الیہود والنصا ری فقالوا : نحن أکثر عملا وأقل عطاء؟ قال اللہ : ہل ظلمتکم من حقکم شیئا؟ قالوا : لا. قال اللہ : فانہ فضلی أعطیہ من شئت۰
رواہ البخاری فی ’’صحیحہ‘‘ ۲/۸۵۲ ( ۳۴۵۹) کتاب أحادیث الأنبیاء‘ باب ما ذکر عن بنی إسرائیل.
) ۲ (و عن عبد اللہ بن رافع مولی أم سلمۃؓ زوج النبی ۔ﷺ ۔أنہ سال أباہریرۃؓ عن وقت الصلاۃ فقال أبوہریرۃؓ : أنا أخبرک صل الظہر إذاکان ظلک مثلک‘ والعصر إذاکان ظلک مثلیک۰
رواہ الامام مالک فی’’المؤطأ‘‘ ص:
অর্থ: (১) হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রিয় নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের বয়স পূর্ববর্তী উম্মতের বয়সের তুলনায় আসরের নামায থেকে নিয়ে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত। আর তোমাদের ও ইয়াহুদ খৃষ্টানদের দৃষ্টান্ত হল এরূপ যে, এক ব্যক্তি কিছু শ্রমিক নিয়োগ কবতে চায়, তাই সে ঘোষণা করল: এক এক কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা কারা দুপুর পর্যন্ত আমার কাজ করে দিবে? (তার এই ঘোষণায়) ইহুদীগণ (সম্মত হয়ে) দুপুর পর্যন্ত এক কিরাতের শর্তে কাজ করল। সেই ব্যক্তি পূণঃ ঘোষণা করল, দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত এক এক কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা আমার কাজ করে দিবে? এবার খৃষ্টানগণ এক এক কিরাতের বিনিময় দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করল। তৃতীয় বার সেই ব্যক্তি ঘোষণা করল, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে দুই দুই কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা আমার কাজ করে দিবে? প্রিয় নবী ﷺ ইরশাদ করেন, “শুনে রাখ তোমরাই তারা যারা আসর খেকে মাগরিব পর্যন্ত কাজ করবে। শুনে রাখ তোমাদেরকেই দ্বিগুণ মজুরী দেওয়া হবে”। (এ অবস্থা দেখে) ইয়াহুদ ও খৃষ্টানগণ এই বলে রাগান্বিত হয়ে গেল যে, আমরা কাজ করলাম অধিক আর আমাদের মজুরী কম! তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন আমি কি তোমাদের প্রাপ্যের কোন অংশ কমিয়ে দিয়েছি? তারা জবাব দিল “না” এবার আল্লাহ তা‘আলা বলেন! নিশ্চয় এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে তা দান করি । সূত্র:বুখারী ৩/৮৫২, (৩৪৫৯)
উল্লেখ্য যে, বর্ণিত হাদীসে ইয়াহুদ ও খ্রীষ্টানদের কাজের সময় উম্মতে মুহাম্মাদীর তুলনায় বেশী, অথচ মজুরীর বেলায় তাদের চেয়ে কম হওয়ায় তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এর দ্বারা বুঝা যায় ইয়াহুদীদের সময় যা সকাল থেকে দুপুর ও খৃষ্টানদের সময় যা দুপুর থেকে আসর তা অবশ্যই উম্মতে মুহাম্মাদীর সময় তথা আসর-মাগরিব থেকে বেশী। আর এটা তখনই হবে যখন আসরকে দুই মিছিল তথা বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর ধরা হবে। আর যদি ছায়া এক গুণ হওয়ার পর আসরের ওয়াক্ত বলা হয়, তবে আসর থেকে মাগরিবের সময় যুহর থেকে আসরের সময়ের চেয়ে অবশ্যই বেশী হয়ে যাবে। অথচ এমতাবস্থায় খৃষ্টানদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার কোন অর্থ থাকে না। কেননা, তাদের কাজের সময় তো উম্মতে মুহাম্মাদীর সময়ের তুলনায় কম। সুতরাং একথা বাধ্য হয়েই বলতে হবে যে, দুই মিছিলের পর আছরের ওয়াক্ত শুরু হয়।
অর্থ: (২) প্রিয়নবী ﷺ এর সহধর্মিণী হযরত উম্মে সালামার রাযি. দাস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. কে নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বলেন, “তুমি যুহরের নামায পড়; যখন তোমার ছায়া এক গুন হয়, আর আসর পড় যখন তোমার ছায়া দ্বিগুণ হয়”। সূত্র: মুআত্তা মালেক পৃষ্ঠা-৩ হাদীসটির সনদ সহীহ। আসারুস সুনান পৃষ্ঠা-৫৩।

হাদিস তো পড়ে না সমাজে কিভাবে ফেতনা ছড়াবে তা ভালো পারে। সুতরাং এটা নিয়ে ফেৎনাবাজি করা জায়েজ নয় ৷৷ আল্লাহ তায়ালা বুঝার তাওফীক দান করুন, আমিন

— আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন —

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ