সূরা আন-নাবা: ৫০টি প্রশ্নোত্তর
নিচে সূরা আন-নাবার ওপর ভিত্তি করে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো। পড়ার সুবিধার জন্য এগুলোকে তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম পর্ব: সাধারণ পরিচিতি ও সৃষ্টিতত্ত্ব (১-১৬)
১. সূরা আন-নাবা কুরআনের কততম সূরা?
উত্তর: ৭৮তম সূরা।
২. এই সূরার আয়াত ও রুকু সংখ্যা কত?
উত্তর: আয়াত সংখ্যা ৪০ এবং রুকু সংখ্যা ২।
৩. সূরাটি কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর: মক্কায় (মাক্কী সূরা)।
৪. 'আন-নাবা' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মহাসংবাদ বা কিয়ামত।
৫. সূরার নামকরণ করা হয়েছে কোন শব্দ থেকে?
উত্তর: দ্বিতীয় আয়াতের 'আন-নাবায়িল আজিম' বাক্যাংশ থেকে।
৬. নাবা মানে আসলে কিসের খবর?
উত্তর: কিয়ামত ও আখেরাতের খবর।
৭. সূরা আন-নাবা কোন শ্রেণীর সূরার অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: 'মুফাসসাল' (সংক্ষিপ্ত) শ্রেণীর সূরা।
৮. কোন সূরাগুলো রাসূল (সা.)-কে বৃদ্ধ করে দিয়েছিল?
উত্তর: সূরা হূদ, ওয়াক্বিআহ, মুরসালাত, আন-নাবা এবং ইযাশ শামসু কুওভিরাত।
৯. 'আম্মা ইয়াতাসাআলুন' আয়াতের অর্থ কী?
উত্তর: তারা একে অন্যের কাছে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
১০. অবিশ্বাসী কুরাইশ নেতারা কোন বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিল?
উত্তর: কিয়ামত বা পুনরুত্থান বিষয়ে।
১১. আল্লাহ পৃথিবীকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: বিছানা বা দোলনার সাথে (আয়াত ৬)।
১২. পাহাড়কে 'পেরেক' বলার কারণ কী?
উত্তর: পাহাড় পৃথিবীকে শক্তভাবে চেপে রাখে যাতে পৃথিবী নড়াচড়া করতে না পারে।
১৩. মানুষকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?
উত্তর: জোড়ায় জোড়ায় (পুরুষ ও নারী)।
১৪. নিদ্রাকে আল্লাহ কী হিসেবে দান করেছেন?
উত্তর: বিশ্রাম বা ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে।
১৫. রাত্রের অন্ধকারকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: পোশাক বা আবরণের সাথে।
১৬. দিনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: জীবিকা অন্বেষণ করা।
১৭. আকাশের বর্ণনা দিতে গিয়ে 'সিদাদা' (সুদৃঢ়) কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: আসমানের গঠন প্রকৃতি অত্যন্ত মজবুত ও অভেদ্য বলে।
দ্বিতীয় পর্ব: বিচার দিবস ও জাহান্নামের শাস্তি (১৭-৩০)
১৮. 'ইয়াওমুল ফাসল' মানে কী?
উত্তর: ফায়সালার দিন বা বিচার দিন।
১৯. বিচার দিবসে শিংগায় ফুঁক দেওয়া হলে মানুষ কীভাবে আসবে?
উত্তর: দলে দলে আসবে।
২০. শিংগায় কয়বার ফুঁক দেওয়া হবে?
উত্তর: দুইবার।
২১. কিয়ামতের দিন আকাশের অবস্থা কেমন হবে?
উত্তর: আকাশ উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং অনেকগুলো দরজা তৈরি হবে।
২২. কিয়ামতের দিন পাহাড়ের অবস্থা কেমন হবে?
উত্তর: পাহাড়সমূহ চলমান হবে এবং মরীচিকার মতো উড়িয়ে দেওয়া হবে।
২৩. জাহান্নাম কাদের জন্য ওৎ পেতে আছে?
উত্তর: সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য।
২৪. জাহান্নামীরা সেখানে কতদিন থাকবে?
উত্তর: যুগ যুগ ধরে (অগণিত সময়)।
২৫. জাহান্নামে তারা পানীয় হিসেবে কী পাবে?
উত্তর: অতি গরম ফুটন্ত পানি ও জাহান্নামীদের শরীর নিঃসৃত পুঁজ।
২৬. জাহান্নামীদের শাস্তিকে কেন 'যথাযোগ্য' বলা হয়েছে?
উত্তর: কারণ তারা হিসাব-নিকাশের আশা করত না এবং আল্লাহর নিদর্শনকে চরমভাবে অস্বীকার করত।
২৭. মানুষের কর্মসমূহ কোথায় সংরক্ষিত থাকে?
উত্তর: আমলনামায় বা আল্লাহর কিতাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষিত থাকে।
২৮. 'প্রোজ্জ্বল দীপ' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সূর্যকে।
২৯. আকাশ থেকে বৃষ্টি কেন বর্ষণ করা হয়?
উত্তর: শস্য, উদ্ভিদ ও ঘন বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের রিজিক দেওয়ার জন্য।
৩০. জাহান্নামে তারা কি শীতল কোনো আস্বাদ পাবে?
উত্তর: না, সেখানে কোনো শীতল বাতাস বা আরামদায়ক পানীয় থাকবে না।
৩১. জাহান্নামীদের আজাব কমানোর কি কোনো সম্ভাবনা আছে?
উত্তর: না, বরং তাদের আজাব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে।
৩২. কুরাইশদের কিয়ামত অস্বীকার করার অন্যতম কারণ কী ছিল?
উত্তর: তাদের অহংকার এবং আখেরাতের জবাবদিহিতার ভয় না থাকা।
৩৩. সূরা নাবার মাধ্যমে আল্লাহ কোন বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?
উত্তর: তাওহীদ এবং আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস।
তৃতীয় পর্ব: জান্নাত ও চূড়ান্ত ফায়সালা (৩১-৪০)
৩৪. মুত্তাকীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
উত্তর: মহাসাফল্য বা জান্নাত।
৩৫. 'তাকওয়া' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা আত্মসংযম।
৩৬. জান্নাতের বাগানে কী কী থাকবে?
উত্তর: আঙুর বাগান ও মনোরম পরিবেশ।
৩৭. জান্নাতিদের সহধর্মিনীদের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে?
উত্তর: তারা হবে সমবয়সী ও চিরযৌবনা।
৩৮. জান্নাতের পানপাত্র কেমন হবে?
উত্তর: শরাবে পরিপূর্ণ ও স্বচ্ছ।
৩৯. জান্নাতে কোন ধরনের কথা শোনা যাবে না?
উত্তর: অসার, অনর্থক বা মিথ্যা বাক্য।
৪০. জান্নাতের এই মহা পুরস্কার কার পক্ষ থেকে?
উত্তর: পরম করুণাময় রবের পক্ষ থেকে।
৪১. কিয়ামত দিবসে ফেরেশতাগণ কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে?
উত্তর: তারা সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
৪২. 'রূহ' বলতে এখানে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রধান ফেরেশতা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে।
৪৩. সেদিন কার অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না?
উত্তর: আল্লাহর অনুমতি ছাড়া।
৪৪. সেদিন মানুষ কী দেখতে পাবে?
উত্তর: তার দুনিয়াতে প্রেরিত কৃতকর্মসমূহ।
৪৫. কিয়ামত দিবসের সত্যতা সম্পর্কে আল্লাহ কী বলেছেন?
উত্তর: এটি সুনিশ্চিত এবং সত্য দিন (যালিকাল ইয়াওমুল হাক্কু)।
৪৬. কাফিররা সেদিন কী বলে আক্ষেপ করবে?
উত্তর: "হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!"
৪৭. কেন কাফিররা মাটি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে?
উত্তর: পশুপাখিদের বিচার শেষে যখন মাটি বানিয়ে দেওয়া হবে, তখন তারা আযাব থেকে বাঁচতে এমনটা চাইবে।
৪৮. জান্নাতের নিয়ামতসমূহকে 'যথাযোগ্য দান' কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: কারণ আল্লাহ মুমিনদের ভালো কাজের জন্য অতিরিক্ত অনুগ্রহ প্রদান করবেন।
৪৯. সূরা আন-নাবার মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, আখেরাতে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।
৫০. কিয়ামত সম্পর্কে মানুষের সংশয়ের উত্তর আল্লাহ কীভাবে দিয়েছেন?
উত্তর: মহাবিশ্বের বিশাল সৃষ্টি প্রক্রিয়ার (আকাশ, পাহাড়, বৃষ্টি) উদাহরণ দিয়ে।
© islambd360 । সংকলন : আলাউদ্দিন রাহমানি

0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।