সূরা নূহ: পরিচিতি, প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি প্রশ্নোত্তর

সূরা নূহ-এর প্রশ্নোত্তর

সূরা নূহ: পরিচিতি, ইতিহাস ও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

"হযরত নূহ (আ.)-এর ৯৫০ বছরের দাওয়াতী সংগ্রাম এবং তাঁর অবাধ্য জাতির পরিণতির বিস্তারিত আলোচনা।"

১. সূরা নূহ-এর পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১. সূরা নূহ কুরআনের কততম সূরা?উত্তর: ৭১ তম সূরা।
২. এই সূরার আয়াত ও রুকু সংখ্যা কত?উত্তর: আয়াত সংখ্যা ২৮ এবং রুকু সংখ্যা ২।
৩. সূরা নূহ কোথায় অবতীর্ণ হয়?উত্তর: মক্কায় (মক্কী সূরা)।
৪. সূরার নামকরণের কারণ কী?উত্তর: এই সূরায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত হযরত নূহ (আ.)-এর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে বলে।
৫. সূরাটি কখন নাযিল হয়েছিল?উত্তর: মক্কী জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে যখন কাফেরদের বিরোধিতা তীব্র ছিল।
৬. এই সূরার মূল উদ্দেশ্য কী?উত্তর: মক্কার কাফেরদের সতর্ক করা যেন তারা নূহ (আ.)-এর জাতির মতো পরিণতি বরণ না করে।
২. হযরত নূহ (আ.)-এর দাওয়াত ও সংগ্রাম
৭. হযরত নূহ (আ.)-কে তাঁর জাতির কাছে কী নির্দেশ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল?উত্তর: যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসার আগে তাঁর সম্প্রদায়কে সতর্ক করার নির্দেশ দিয়ে।
৮. পৃথিবীর সর্বপ্রথম রাসূল কে ছিলেন?উত্তর: হযরত নূহ (আ.)।
৯. নূহ (আ.) কত বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন?উত্তর: বিভিন্ন বর্ণনা মতে ৪০ বা ৫০ বছর বয়সে।
১০. নূহ (আ.) কত বছর দাওয়াতী কাজ করেন?উত্তর: ৯৫০ বছর।
১১. দাওয়াতের শুরুতে তিনি কয়টি প্রধান বিষয় পেশ করেন?উত্তর: তিনটি—১. আল্লাহর ইবাদত, ২. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি, ৩. রাসূলের আনুগত্য।
১২. নূহ (আ.) দিনের কোন সময় দাওয়াত দিতেন?উত্তর: দিবা-রাত্রি সর্বক্ষণ।
১৩. দাওয়াতের ক্ষেত্রে তিনি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন?উত্তর: প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে এবং গোপনে ব্যক্তিগতভাবে।
১৪. নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে আল্লাহর কোন কোন নেয়ামতের কথা মনে করিয়ে দেন?উত্তর: সাত আকাশ সৃষ্টি, চাঁদকে আলোক ও সূর্যকে প্রদীপ হিসেবে স্থাপন এবং ভূমি থেকে উদ্ভিদ ও মানুষকে উৎপন্ন করা।
৩. জাতির প্রতিক্রিয়া ও অবাধ্যতা
১৫. দাওয়াত শুনে নূহ (আ.)-এর জাতির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?উত্তর: তারা কানে আঙ্গুল দিত, কাপড় দিয়ে নিজেদের ঢেকে রাখত এবং চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
১৬. তারা কেন কাপড় দিয়ে নিজেদের ঢেকে রাখত?উত্তর: যেন নূহ (আ.)-এর চেহারা দেখতে না হয় এবং কথা শুনতে না হয়।
১৭. নূহ (আ.)-এর জাতি কাদের অনুসরণ করেছিল?উত্তর: তাদের ধনী ও প্রভাবশালী নেতাদের, যাদের সম্পদ ও সন্তান কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছিল।
১৮. নেতারা জাতির লোকদের কী বলে বিভ্রান্ত করত?উত্তর: তারা বলত নূহ (আ.) একজন সাধারণ মানুষ এবং তিনি কেবল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান।
১৯. নূহ (আ.)-এর জাতির পাঁচটি প্রধান মূর্তির নাম কী?উত্তর: ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসর।
২০. মূর্তিপূজার সূচনা কীভাবে হয়েছিল?উত্তর: নেককার ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর শয়তানের প্ররোচনায় তাদের প্রতিকৃতি তৈরির মাধ্যমে।
২১. সেই পাঁচজন নেককার ব্যক্তি কোন সময়ের ছিলেন?উত্তর: আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর মধ্যবর্তী সময়ের।
৪. ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার সুফল
২২. ইস্তেগফার করলে দুনিয়াতে কী লাভ হয়?উত্তর: প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত হয়।
২৩. ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ আর কী দান করেন?উত্তর: উদ্যান (বাগান) এবং নদীনালা প্রবাহিত করেন।
২৪. কারা ইস্তেগফার করলে আল্লাহ আয়ু বৃদ্ধি করে দেন?উত্তর: যারা ঈমান আনে এবং রাসূলের আনুগত্য করে।
২৫. উমর (রা.) বৃষ্টির জন্য দুআ করতে গিয়ে কী করেছিলেন?উত্তর: তিনি কেবল ইস্তেগফার পাঠ করেছিলেন।
২৬. হাসান বসরী অভাবী লোকদের কী পরামর্শ দিতেন?উত্তর: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তেগফার করতে।
৫. আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব ও নিদর্শন
২৭. আল্লাহ আকাশমন্ডলীকে কীভাবে সৃষ্টি করেছেন?উত্তর: সাত স্তরে বিন্যস্ত করে।
২৮. সূর্যকে সূরায় কী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে?উত্তর: প্রদীপ (সিরাজ)।
২৯. চাঁদকে সূরায় কী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে?উত্তর: আলো (নূর)।
৩০. মানুষকে মাটি থেকে উৎপন্ন করার উপমা কিসের সাথে দেওয়া হয়েছে?উত্তর: উদ্ভিদের মতো।
৩১. আল্লাহ পৃথিবীকে মানুষের জন্য কেমন করেছেন?উত্তর: বিস্তৃত বা কার্পেটের মতো বিছানো।
৩২. কেন বিস্তৃত পথে চলাচলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে?উত্তর: যেন মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও ক্ষমতা অনুভব করতে পারে।
৬. নূহ (আ.)-এর দুআ ও চূড়ান্ত পরিণতি
৩৩. নূহ (আ.) কেন তাঁর জাতির পথভ্রষ্টতা বৃদ্ধির দুআ করেছিলেন?উত্তর: ৯৫০ বছর চেষ্টার পর যখন তিনি নিশ্চিত হন যে তারা আর ঈমান আনবে না।
৩৪. নূহ (আ.) কাফেরদের সম্পর্কে কী বদদুআ করেছিলেন?উত্তর: যেন পৃথিবীতে একজন কাফের গৃহবাসীকেও অবশিষ্ট রাখা না হয়।
৩৫. তিনি কেন কাফেরদের বংশধরদেরও ধ্বংস চেয়েছিলেন?উত্তর: কারণ তারা কেবল পাপাচারী ও কাফের সন্তানই জন্ম দেবে।
৩৬. নূহ (আ.) নিজের জন্য এবং আর কাদের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন?উত্তর: নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য এবং সকল মুমিন নর-নারীর জন্য।
৩৭. নূহ (আ.)-এর জাতিকে কিসের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছিল?উত্তর: মহা প্লাবন বা পানিতে ডুবিয়ে।
৩৮. প্লাবনে ডুবে মরার পর তাদের কোথায় প্রবেশ করানো হয়?উত্তর: আগুনে বা জাহান্নামে।
৩৯. আল্লাহ ছাড়া কাফেরদের আর কোনো সাহায্যকারী ছিল কি?উত্তর: না, তারা কাউকেই সাহায্যকারী পায়নি।
৭. সূরার শিক্ষা ও বিধান
৪০. একজন দাঈর প্রধান গুণ কী হওয়া উচিত?উত্তর: হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যাওয়া।
৪১. আল্লাহর অবাধ্যাচরণ দুনিয়ার জীবনে কী প্রভাব ফেলে?উত্তর: জীবনকে সংকীর্ণ ও বরকতহীন করে দেয়।
৪২. মূর্তিপূজার মূল কারণ কী ছিল?উত্তর: সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করা।
৪৩. দুআ করার ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি কোনটি?উত্তর: প্রথমে নিজের জন্য দুআ করা।
৪৪. জালেমদের জন্য বদদুআ করা কি জায়েজ?উত্তর: হ্যাঁ, বিশেষ পরিস্থিতিতে শরীয়তসম্মত।
৪৫. মুমিনদের একে অপরের জন্য করণীয় কী?উত্তর: একে অপরের জন্য কল্যাণ ও ক্ষমার দুআ করা।
৪৬. নূহ (আ.)-এর কাহিনীর মাধ্যমে রাসূল (সা.)-কে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে?উত্তর: কাফেরদের বিরোধিতায় ধৈর্য ধারণ করতে।
৪৭. নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে আজাব থেকে রক্ষার কী উপায় বলেছিলেন?উত্তর: ঈমান ও আনুগত্যের পথ অবলম্বন করা।
৪৮. আল্লাহর হুকুম আসলে তা কি পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব?উত্তর: না, নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হলে তা বিলম্বিত করা হয় না।
৪৯. নূহ (আ.)-এর পিতার নাম কী?উত্তর: লামেক।
৫০. সূরা নূহ পাঠের মাধ্যমে কীসের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে?উত্তর: তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতি।

দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে এই তথ্যগুলো শেয়ার করুন।
© ২০২৬ islambd360 ব্লগ পোর্টাল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ