মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যু: টঙ্গী জামিয়া নূরিয়ার দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্র বহিষ্কার
টঙ্গী: মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গীর প্রখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে এই ধরনের গণ-বহিষ্কারের ঘটনাকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
![]() |
| Islambd360 |
মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা যায়, সম্প্রতি মাদ্রাসায় আকস্মিক মোবাইল চেকিং শুরু করলে দাওরা শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই বিষয়টি টের পেয়ে মোবাইল সরিয়ে ফেলে। ফলে তাদের কাছে ফোন পাওয়া না গেলেও অন্যান্য শ্রেণির ছাত্রদের কাছে মোবাইল উদ্ধার হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দাওরার শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা না করে বরং তথ্য গোপন করেছে।
পরবর্তীতে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ (দরস) বর্জন করে দারুল হাদিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মাওলানা শফী কাসেমী জানান, এই ছাত্র গ্রুপটি গত বছরও একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা মাদ্রাসার সামগ্রিক শৃঙ্খলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য যেহেতু আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া, তাই বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা তা মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দাওরা স্তরের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় কওমি ঘরানার আলেম ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় একে যুগান্তকারী বলছেন, আবার অনেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।