সূরা ফাতিহাতেও একমত হতে পারেনি সালাফী ও লা-মাযহাবীরা!
জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া ও না-পড়া— উভয় দিকেই হাদীস রয়েছে। তন্মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কোনটি অগ্রগণ্য— এ বিষয়ে লিখতে বসবো, এমন সময় এক দীনী ভাই ম্যাসেজে জনৈক সুশীল সালাফী বা সফট সালাফী আলেমের একটি মন্তব্য পাঠালেন। এই সালাফী সাহেবের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, সালাফীরা সরাসরি হাদীস অনুসরণ করে। হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা এসেছে, ব্যস, পড়তে হবে। সহীহ বুখারীতে আছে, অতএব আমল করতে হবে, ইত্যাদি।
তিনি বুঝাতে চাচ্ছিলেন যে, বিষয়টি এতো জটিল করার দরকার কি!
তার মন্তব্য জানার পর মনে হলো যে, তাত্ত্বিক আলোচনার পূর্বে পরিষ্কার হওয়া বাঞ্চনীয় যে, জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার ব্যাপারে যেভাবে সহীহ বুখারী থেকে হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস উদ্ধৃত করা হচ্ছে, আর ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, হাদীসটি মনে হয়, দুয়ে দুয়ে চার এর মত সহজ ও সোজা—কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা মোটেও এমন নয়।
অবশ্য তাদের এমন মন্তব্য আজ নতুন না। তারা তো মনেই করে যে, হাদীস জানা আর সেই হাদীস অনুযায়ী আমল করা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানে হাদীস জানলেই আমল করা যায়। জানা আর আমল করার মাঝে কোনো স্তর নেই। অথচ খোদ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন:
তিনি বুঝাতে চাচ্ছিলেন যে, বিষয়টি এতো জটিল করার দরকার কি!
তার মন্তব্য জানার পর মনে হলো যে, তাত্ত্বিক আলোচনার পূর্বে পরিষ্কার হওয়া বাঞ্চনীয় যে, জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়ার ব্যাপারে যেভাবে সহীহ বুখারী থেকে হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস উদ্ধৃত করা হচ্ছে, আর ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, হাদীসটি মনে হয়, দুয়ে দুয়ে চার এর মত সহজ ও সোজা—কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা মোটেও এমন নয়।
অবশ্য তাদের এমন মন্তব্য আজ নতুন না। তারা তো মনেই করে যে, হাদীস জানা আর সেই হাদীস অনুযায়ী আমল করা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানে হাদীস জানলেই আমল করা যায়। জানা আর আমল করার মাঝে কোনো স্তর নেই। অথচ খোদ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন:
رب حامل فقه ليس بفقيه. (سنন أبي داود (3660)، والترمذي (2656)
অর্থাৎ হাদীস জানলেই সবাই কিন্তু হাদীস বোঝে না। হাদীস জানা আর আমল করার মাঝে হাদীস যথানিয়মে বোঝার একটি বিস্তর অন্তরায় আছে।
অনেকেই হোঁচট খায় বোঝার এই স্তরে এসেই। যার উজ্জ্বল উদাহরণ এই সূরা ফাতিহার হাদীস। খোদ সালাফীরাও ঝামেলায় পড়ে গেছে এই হাদীস বুঝতে গিয়ে। এক হাদীস থেকেই তৈরি হয়েছে নানা মত ও পথ। অথচ তাদের সকলেরই একমত হওয়া উচিৎ ছিল; এক সুরে কথা বলার দরকার ছিল। কিন্তু তা হয়নি। খোদ সালাফীরাই একাধিক মতে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের এতগুলি মত তৈরির পিছনে তাদের মূল দলীল হলো, হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর এই হাদীস; এই সহীহ বুখারীর হাদীস।
এর অর্থ দাঁড়ায় যে, খোদ সালাফী বা লা-মাযহাবীদের দৃষ্টিতেও শুধু এই হাদীস উল্লেখ করাটাই যথেষ্ট নয়। বরং জিজ্ঞাসা করতে হয় যে, আপনি কোন মত মানেন? কোন ব্যাখ্যা মানেন? এখন বিচার করুন যে, হাদীসটি কি এতই সোজা যে, দুয়ে দুয়ে চারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আর বললাম, এটিই সঠিক! এটিই সত্য!
আসুন তাদের কিছু মতভিন্নতার খতিয়ান দেখে নিই:
অনেকেই হোঁচট খায় বোঝার এই স্তরে এসেই। যার উজ্জ্বল উদাহরণ এই সূরা ফাতিহার হাদীস। খোদ সালাফীরাও ঝামেলায় পড়ে গেছে এই হাদীস বুঝতে গিয়ে। এক হাদীস থেকেই তৈরি হয়েছে নানা মত ও পথ। অথচ তাদের সকলেরই একমত হওয়া উচিৎ ছিল; এক সুরে কথা বলার দরকার ছিল। কিন্তু তা হয়নি। খোদ সালাফীরাই একাধিক মতে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের এতগুলি মত তৈরির পিছনে তাদের মূল দলীল হলো, হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর এই হাদীস; এই সহীহ বুখারীর হাদীস।
এর অর্থ দাঁড়ায় যে, খোদ সালাফী বা লা-মাযহাবীদের দৃষ্টিতেও শুধু এই হাদীস উল্লেখ করাটাই যথেষ্ট নয়। বরং জিজ্ঞাসা করতে হয় যে, আপনি কোন মত মানেন? কোন ব্যাখ্যা মানেন? এখন বিচার করুন যে, হাদীসটি কি এতই সোজা যে, দুয়ে দুয়ে চারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আর বললাম, এটিই সঠিক! এটিই সত্য!
আসুন তাদের কিছু মতভিন্নতার খতিয়ান দেখে নিই:
১. জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়া ফরয
সালাফী ও লা-মাযহাবীদের অনুসরণীয় আলেমদের একদলের মত হলো, জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়া রুকন তথা ফরয। শুধু সুন্নতই নয় বরং রুকন/ফরয। অর্থাৎ পড়তেই হবে। না পড়লে নামাযই হবে না। শায়েখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন এ প্রসঙ্গে বলেন:
الفাতحة في صلاة الجنازة ركن.)" الشرح الممتع " ( 5 / 401 ) . ‘জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন তথা ফরয।’
লা-মাযহাবী আলেম মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস দেহলভী বলেন:
امام اور مقتدی کو سورہ فاتحہ پڑھنی ضروری ہے۔۔۔اگر امام یا مقتدی نے نماز جنازہ میں سورہ فاتحہ نہ پڑھی تو نماز باطل ہوگی। (فتاوی علماء حدیث ৫/১৮৫)
"ইমাম এবং মুক্তাদি—উভয়ের জন্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করা জরুরি। যদি ইমাম বা মুক্তাদি জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়েন, তবে সেই নামায বাতিল হবে।"
الفাতحة في صلاة الجنازة ركن.)" الشرح الممتع " ( 5 / 401 ) . ‘জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন তথা ফরয।’
লা-মাযহাবী আলেম মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস দেহলভী বলেন:
امام اور مقتدی کو سورہ فاتحہ پڑھنی ضروری ہے۔۔۔اگر امام یا مقتدی نے نماز جنازہ میں سورہ فاتحہ نہ پڑھی تو نماز باطل ہوگی। (فتاوی علماء حدیث ৫/১৮৫)
"ইমাম এবং মুক্তাদি—উভয়ের জন্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করা জরুরি। যদি ইমাম বা মুক্তাদি জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়েন, তবে সেই নামায বাতিল হবে।"
২. সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব
সালাফী ও লা-মাযহাবী আলেমদের কেউ কেউ মনে করেন যে, জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। ফরয নয়; তবে ওয়াজিব। যেমন: কাযী শাওকানী বলেন,
واختلف الأوّلون هل قراءة الفاتحة واجبة أم لا؟ فذهب إلى الأوّل ... وهو الحقّ. (نيل الأوطار 7/359) “জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব (আবশ্যক) কি না—এ বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে প্রথম মতটিই (ওয়াজিব হওয়ার) মতটিই হক বা সঠিক মত।"
শায়েখ উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী বলেন,
والحق والصواب أن قراءة الفاتحة في صلاة الجنازة واجبة. (مرعاة المفاتيح 5/381) শায়েখ বিন বায সূরা ফাতিহা ওয়াজিব কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন,
واجبة. (مجموع فتاوى ومقالات متنوعة للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز م/13 ص/143)
“জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব।...”
এবং লা-মাযহাবী আলেম আবদুল জব্বার গজনবী বলেন:
نماز جنازہ میں فاتحہ کا وجوب ثابت ہوتاہے
“জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করার আবশ্যকীয়তা প্রমাণিত।” [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/183]
واختلف الأوّلون هل قراءة الفاتحة واجبة أم لا؟ فذهب إلى الأوّل ... وهو الحقّ. (نيل الأوطار 7/359) “জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব (আবশ্যক) কি না—এ বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে প্রথম মতটিই (ওয়াজিব হওয়ার) মতটিই হক বা সঠিক মত।"
শায়েখ উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী বলেন,
والحق والصواب أن قراءة الفاتحة في صلاة الجنازة واجبة. (مرعاة المفاتيح 5/381) শায়েখ বিন বায সূরা ফাতিহা ওয়াজিব কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন,
واجبة. (مجموع فتاوى ومقالات متنوعة للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز م/13 ص/143)
“জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব।...”
এবং লা-মাযহাবী আলেম আবদুল জব্বার গজনবী বলেন:
نماز جنازہ میں فاتحہ کا وجوب ثابت ہوتاہے
“জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করার আবশ্যকীয়তা প্রমাণিত।” [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/183]
৩. সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নাত, না পড়লেও চলবে
উপরের দুটি ভিন্ন ভিন্ন মতকে ভুল আখ্যা দেন শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রহ.। তিনি বলেন:
وَاخْتَلَفَ السَّلَفُ وَالْعُلَمَاءُ: هَلْ فِيهَا قِرَاءَةٌ؟ عَلَى قَوْلَيْنِ مَشْهُورَيْنِ وَلَمْ يُوَقِّتْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا دُعَاءً بِعَيْنِهِ فَعُلِمَ أَنَّهُ لَا يتوقت فِيهَا وُجُوبُ شَيْءٍ مِنْ الْأَذْكَارِ وَإِنْ كَانَتْ قِرَاءَةُ الْفَاتِحَةِ فِيهَا سُنَّةً كَمَا ثَبَتَ ذَلِكَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ. فَالنَّاسُ فِي قِرَاءَةِ الْفَاتِحَةِ فِيهَا عَلَى أَقْوَالٍ: قِيلَ: تُكْرَهُ. وَقِيلَ: تَجِبُ. وَالْأَشْبَهُ أَنَّهَا مُسْتَحَبَّةٌ لَا تُكْرَهُ وَلَا تَجِبُ...(مجموع الفتاوى 21:286) “সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে—জানাযার নামাযে কিরাত (সূরা ফাতিহা) আছে কি না? এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। নবী ﷺ জানাযার নামাযে নির্দিষ্ট কোনো দুআ নির্ধারণ করে দেননি, যা থেকে বোঝা যায় যে, এতে কোনো যিকিরই (নির্দিষ্টভাবে) ওয়াজিব বা আবশ্যক করা হয়নি। যদিও এতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাহ, যেমনটি ইবনে আব্বাস রা. থেকে প্রমাণিত হয়েছে। জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে: কেউ বলেছেন এটি মাকরূহ, কেউ বলেছেন এটি ওয়াজিব। তবে অধিকতর সঠিক মত হলো, এটি মুস্তাহাব; এটি মাকরূহও নয়, আবার ওয়াজিবও নয়।"
অন্যস্থানে তিনি এ বিষয়ে একাধিক মত উল্লেখ করে বলেন:
بل قراءة الفاتحة فيها سنة، وإن لم يقرأ بل دعا بلا قراءة جاز، وهذا هو الصواب. (الفتاوى الكبرى 2/121)
লা-মাযহাবীদের প্রসিদ্ধ আলেম, শায়খ আবুত তাইয়েব শামসুল হক আযীমাবাদী রহ.-ও এই মতটিকে সঠিক বলেছেন। (আউনুল মা’বুদ ৮/৩৪৪)
তাদেরই ঘরানার একজন আলেম, শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানীর অন্যতম শিষ্য, শায়েখ মাশহুর বিন হাসান আলে সালমান এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, "القول المبين في منكرات الجنائز والمآتم ودور دفن الموتى والتأبين" নামে। এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন:
أنه لم يصح شيء عن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- في وجوب قراءة الفাতحة في صلاة الجنازة.
“জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে সহীহ কোনো বর্ণনা নেই।" (দ্র. https://meshhoor.com/fatwa/f1194/)
وَاخْتَلَفَ السَّلَفُ وَالْعُلَمَاءُ: هَلْ فِيهَا قِرَاءَةٌ؟ عَلَى قَوْلَيْنِ مَشْهُورَيْنِ وَلَمْ يُوَقِّتْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا دُعَاءً بِعَيْنِهِ فَعُلِمَ أَنَّهُ لَا يتوقت فِيهَا وُجُوبُ شَيْءٍ مِنْ الْأَذْكَارِ وَإِنْ كَانَتْ قِرَاءَةُ الْفَاتِحَةِ فِيهَا سُنَّةً كَمَا ثَبَتَ ذَلِكَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ. فَالنَّاسُ فِي قِرَاءَةِ الْفَاتِحَةِ فِيهَا عَلَى أَقْوَالٍ: قِيلَ: تُكْرَهُ. وَقِيلَ: تَجِبُ. وَالْأَشْبَهُ أَنَّهَا مُسْتَحَبَّةٌ لَا تُكْرَهُ وَلَا تَجِبُ...(مجموع الفتاوى 21:286) “সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে—জানাযার নামাযে কিরাত (সূরা ফাতিহা) আছে কি না? এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। নবী ﷺ জানাযার নামাযে নির্দিষ্ট কোনো দুআ নির্ধারণ করে দেননি, যা থেকে বোঝা যায় যে, এতে কোনো যিকিরই (নির্দিষ্টভাবে) ওয়াজিব বা আবশ্যক করা হয়নি। যদিও এতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাহ, যেমনটি ইবনে আব্বাস রা. থেকে প্রমাণিত হয়েছে। জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে: কেউ বলেছেন এটি মাকরূহ, কেউ বলেছেন এটি ওয়াজিব। তবে অধিকতর সঠিক মত হলো, এটি মুস্তাহাব; এটি মাকরূহও নয়, আবার ওয়াজিবও নয়।"
অন্যস্থানে তিনি এ বিষয়ে একাধিক মত উল্লেখ করে বলেন:
بل قراءة الفاتحة فيها سنة، وإن لم يقرأ بل دعا بلا قراءة جاز، وهذا هو الصواب. (الفتاوى الكبرى 2/121)
লা-মাযহাবীদের প্রসিদ্ধ আলেম, শায়খ আবুত তাইয়েব শামসুল হক আযীমাবাদী রহ.-ও এই মতটিকে সঠিক বলেছেন। (আউনুল মা’বুদ ৮/৩৪৪)
তাদেরই ঘরানার একজন আলেম, শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানীর অন্যতম শিষ্য, শায়েখ মাশহুর বিন হাসান আলে সালমান এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, "القول المبين في منكرات الجنائز والمآتم ودور دفن الموتى والتأبين" নামে। এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন:
أنه لم يصح شيء عن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- في وجوب قراءة الفাতحة في صلاة الجنازة.
“জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে সহীহ কোনো বর্ণনা নেই।" (দ্র. https://meshhoor.com/fatwa/f1194/)
৪. সূরা ফাতিহা নিঃশব্দে পড়তে হবে, উচ্চশব্দে পড়াকে সুন্নত মনে করা সঠিক নয়
সূরা ফাতিহা পড়বে কীভাবে— সেই বিষয়েও তারা একমত হতে পারেননি। তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মতভেদ। এখানেও মূল কারণ, এই হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীস। যেমন, লা-মাযহাবীদের ফতোয়ায় উল্লেখ হয়েছে:
بلند آواز سے سورہ فاتحہ جب تعلیم کے لئی ہو تو جائز ہے۔۔۔ ہاں اس کو عادت بنانا اور سنت سمجھنا صحیح نہیں۔
“"মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জানাযার নামাযে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা পাঠ করা জায়েজ। তবে একে অভ্যাসে পরিণত করা এবং (উচ্চস্বরে পড়াকেই) সুন্নাত মনে করা সঠিক নয়।" — [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫২]
بلند آواز سے سورہ فاتحہ جب تعلیم کے لئی ہو تو جائز ہے۔۔۔ ہاں اس کو عادت بنانا اور سنت سمجھنا صحیح نہیں۔
“"মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জানাযার নামাযে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা পাঠ করা জায়েজ। তবে একে অভ্যাসে পরিণত করা এবং (উচ্চস্বরে পড়াকেই) সুন্নাত মনে করা সঠিক নয়।" — [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫২]
৫. সূরা ফাতিহা উচ্চশব্দে পড়া মাকরূহ
অন্যদিকে সালাফী আলেম শায়খ আবু মালিক তাওফীক এক ফতোয়ায় উচ্চশব্দে পড়াকে মাকরূহ দাবি করেছেন:
ما حكم الجهر في القراءة في صلاة الجنازة؟ يكره ذلك، فهي صلاة سرية. (رقم الفتوى 6898)
"জানাজার নামাজে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করার বিধান কী? উত্তর হলো: এটি মাকরূহ; কেননা জানাযার নামায মূলত অনুচ্চস্বরে পড়ার নামায।" (দ্র. https://sheikh-tawfik.net/show_fatawa.php?id=7425#)
ما حكم الجهر في القراءة في صلاة الجنازة؟ يكره ذلك، فهي صلاة سرية. (رقم الفتوى 6898)
"জানাজার নামাজে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করার বিধান কী? উত্তর হলো: এটি মাকরূহ; কেননা জানাযার নামায মূলত অনুচ্চস্বরে পড়ার নামায।" (দ্র. https://sheikh-tawfik.net/show_fatawa.php?id=7425#)
৬. সূরা ফাতিহা উচ্চশব্দে পড়তে হবে
অপরদিকে লা-মাযহাবী আলেমদের অনেকে মনে করেন যে, সূরা ফাতিহা উচ্চশব্দে পড়াই নিয়ম ও সুন্নত। মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জলীল বলেন:
جنازہ میں سورہ فاتحہ اور کوئی ایک سورہ کا پڑھنا اور نیز جنازہ کی نماز آواز سے پڑھنا شرعا ثابت ہے، مکروہ یا حرام کہنا بے علمی و بے خبری کا نمرہ ہے۔
"জানাযায় সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা এবং সেই সাথে জানাযার নামায উচ্চস্বরে পড়া শরীয়তসম্মতভাবে প্রমাণিত; একে মাকরূহ বা হারাম বলা অজ্ঞতা ও অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫১]
جنازہ میں سورہ فاتحہ اور کوئی ایک سورہ کا پڑھنا اور نیز جنازہ کی نماز آواز سے پڑھنا شرعا ثابت ہے، مکروہ یا حرام کہنا بے علمی و بے خبری کا نمرہ ہے۔
"জানাযায় সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা এবং সেই সাথে জানাযার নামায উচ্চস্বরে পড়া শরীয়তসম্মতভাবে প্রমাণিত; একে মাকরূহ বা হারাম বলা অজ্ঞতা ও অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫১]
৭. সূরা ফাতিহা উচ্চশব্দে পড়া জায়েয
লা-মাযহাবীদের কেউ কেউ মনে করেন যে, জানাযায় সূরা ফাতিহা উচ্চশব্দে পড়া সুন্নত নয়; বরং জায়েয। ফাতাওয়ায়ে সানাইয়্যা কিতাবে উল্লেখ হয়েছে:
تصریحات محققین سے جہری جنازہ کا جواز ثابت ہوگیا।
"জানাযায় সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা, এমনকি জানাযার নামায উচ্চস্বরে পড়া শরীয়তসম্মতভাবে প্রমাণিত। একে মাকরূহ বা হারাম বলা অজ্ঞতা ও অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫১]
লা-মাযহাবী আলেম ইউসুফ ইবরাহীমী বলেন:
جنازہ بلند آواز سے پڑھنا جائز ہے۔
"উচ্চস্বরে জানাযা পড়া জায়েয।" [ফাতাওয়া আহলে হাদীস: ২/৪৫৭]
تصریحات محققین سے جہری جنازہ کا جواز ثابت ہوگیا।
"জানাযায় সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা, এমনকি জানাযার নামায উচ্চস্বরে পড়া শরীয়তসম্মতভাবে প্রমাণিত। একে মাকরূহ বা হারাম বলা অজ্ঞতা ও অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১৫১]
লা-মাযহাবী আলেম ইউসুফ ইবরাহীমী বলেন:
جنازہ بلند آواز سے پڑھنا جائز ہے۔
"উচ্চস্বরে জানাযা পড়া জায়েয।" [ফাতাওয়া আহলে হাদীস: ২/৪৫৭]
৮. আরও একটি সূরা মিলাতে হবে এবং উচ্চশব্দে পড়তে হবে
হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীস অনুযায়ী কোনো কোনো সালাফী ও লা-মাযহাবী আলেম মনে করেন যে, সূরা ফাতিহার সাথে আরও সূরা মিলাতে হবে। অর্থাৎ জানাযায় দুটি সূরা পড়তে হবে। যেমন: কাযী শাওকানী এ প্রসঙ্গে বলেন:
فيه مشروعية قراءة سورة مع الفاتحة في صلاة الجنازة ولا محيص عن المصير إلى ذلك لأنها زياده خارجة عن مخرج صحيح "এতে জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পাঠ করার বিধান বা বৈধতা রয়েছে। আর এই মত গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই; কেননা এটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।" [নাইলুল আওতার: ৭/৩৫৯]
শায়খ আবদুর রহমান মুবারকপুরী বলেন:
بلا شبہ ابن عباس کی روایت مذکور بالا سے ثابت ہے کہ نماز جنازہ میں سورہ فاتحہ اور کسی اور سورہ کا پڑھنا سنت وحق ہے۔
"নিঃসন্দেহে ইবনে আব্বাস রা.-এর উপর্যুক্ত বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা সুন্নাত ও হক।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১০৫]
একই কথা শায়েখ বিন বায ('মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত' 13/144) এবং আরও অনেক সালাফী আলেম বলেছেন। তবে এখানেও কেউ বলেছেন, সূরা মিলানো সুন্নাত, আবার কেউ বলেছেন উত্তম, কেউ জায়েয আখ্যা দিয়েছেন। যেমন: শায়েখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রহ. বলেন:
لا بأس أن يقرأ الإنسان في صلاة الجنازة شيئا قليلا من القرآن بعد الفاتحة، وإن اقتصر على الفاتحة فالأمر واسع.
"জানাযায় সূরা ফাতিহার পর কুরআন মাজীদ থেকে অন্য সূরা বা আয়াত পাঠ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যদি কেউ শুধু সূরা ফাতিহার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে সুযোগও রয়েছে।" [মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উসাইমীন: ১৭/১২১]
অন্যদিকে আল্লামা ইবনে তাইমিিয়া রহ. জানাযা নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরার পড়ার প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি বলেন,
فَلَوْ كَانَتْ الْفَاتِحَةُ وَاجِبَةً فِيهَا كَمَا تَجِبُ فِي الصَّلَاةِ التَّامَّةِ لَشُرِعَ فِيهَا قِرَاءَةٌ زَائِدَةٌ عَلَى الْفَاتِحَةِ.
"যদি জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব হতো—যেমনটি সাধারণ পূর্ণাঙ্গ নামাযসমূহে ওয়াজিব—তবে জানাযার নামাযেও সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত অন্য কোনো সূরা পাঠ করার শরঈ নির্দেশ থাকতো।" [মাজমুউল ফাতাওয়া: ২১/২৮৬]
فيه مشروعية قراءة سورة مع الفاتحة في صلاة الجنازة ولا محيص عن المصير إلى ذلك لأنها زياده خارجة عن مخرج صحيح "এতে জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পাঠ করার বিধান বা বৈধতা রয়েছে। আর এই মত গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই; কেননা এটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।" [নাইলুল আওতার: ৭/৩৫৯]
শায়খ আবদুর রহমান মুবারকপুরী বলেন:
بلا شبہ ابن عباس کی روایت مذکور بالا سے ثابت ہے کہ نماز جنازہ میں سورہ فاتحہ اور کسی اور سورہ کا پڑھنا سنت وحق ہے۔
"নিঃসন্দেহে ইবনে আব্বাস রা.-এর উপর্যুক্ত বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করা সুন্নাত ও হক।" [ফাতাওয়া উলামায়ে হাদীস: ৫/১০৫]
একই কথা শায়েখ বিন বায ('মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত' 13/144) এবং আরও অনেক সালাফী আলেম বলেছেন। তবে এখানেও কেউ বলেছেন, সূরা মিলানো সুন্নাত, আবার কেউ বলেছেন উত্তম, কেউ জায়েয আখ্যা দিয়েছেন। যেমন: শায়েখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রহ. বলেন:
لا بأس أن يقرأ الإنسان في صلاة الجنازة شيئا قليلا من القرآن بعد الفاتحة، وإن اقتصر على الفاتحة فالأمر واسع.
"জানাযায় সূরা ফাতিহার পর কুরআন মাজীদ থেকে অন্য সূরা বা আয়াত পাঠ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যদি কেউ শুধু সূরা ফাতিহার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে সুযোগও রয়েছে।" [মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উসাইমীন: ১৭/১২১]
অন্যদিকে আল্লামা ইবনে তাইমিিয়া রহ. জানাযা নামাযে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরার পড়ার প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি বলেন,
فَلَوْ كَانَتْ الْفَاتِحَةُ وَاجِبَةً فِيهَا كَمَا تَجِبُ فِي الصَّلَاةِ التَّامَّةِ لَشُرِعَ فِيهَا قِرَاءَةٌ زَائِدَةٌ عَلَى الْفَاتِحَةِ.
"যদি জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব হতো—যেমনটি সাধারণ পূর্ণাঙ্গ নামাযসমূহে ওয়াজিব—তবে জানাযার নামাযেও সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত অন্য কোনো সূরা পাঠ করার শরঈ নির্দেশ থাকতো।" [মাজমুউল ফাতাওয়া: ২১/২৮৬]
এই হলো তাদের সংক্ষিপ্ত কয়েকটি মতভেদ। সূরা ফাতিহা পড়াকে কেন্দ্র করে। হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীসকে কেন্দ্র করে।
তারা বলেছিল, আপনারা ফিকহ ছাড়েন, মাযহাব ছাড়েন। ফিকহ ও মাযহাবই ইখতিলাফ তৈরি করে। হাদীস মানলেই সব ইখতিলাফ দূর হয়ে যাবে।
আজ তারাই সেই ইখতিলাফে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাদের ইখতিলাফ এই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে যে, "হাদীস আছে তো আমল হবে" বা "সহীহ বুখারীতে আছে তো আমল হবে", কোনো ইমামের মতামত ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই— এমন দাবি আদৌ কি সঠিক?
তারা বলেছিল, আপনারা ফিকহ ছাড়েন, মাযহাব ছাড়েন। ফিকহ ও মাযহাবই ইখতিলাফ তৈরি করে। হাদীস মানলেই সব ইখতিলাফ দূর হয়ে যাবে।
আজ তারাই সেই ইখতিলাফে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাদের ইখতিলাফ এই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে যে, "হাদীস আছে তো আমল হবে" বা "সহীহ বুখারীতে আছে তো আমল হবে", কোনো ইমামের মতামত ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই— এমন দাবি আদৌ কি সঠিক?

1 মন্তব্যসমূহ
শেয়ার করুন সবাই
উত্তরমুছুনলেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।