সূরা আবাসা: ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি

সূরা আবাসা: পরিচিতি ও শান-এ-নুজুল
১. সূরা আবাসা কুরআনের কততম সূরা? উত্তর: এটি কুরআনের ৮০তম সূরা।
২. এই সূরার আয়াত ও রুকু সংখ্যা কত? উত্তর: আয়াত সংখ্যা ৪২ এবং রুকু সংখ্যা ১।
৩. সূরা আবাসা মাক্কী না মাদানী? উত্তর: এটি একটি মাক্কী সূরা।
৪. ‘আবাসা’ (عبس) শব্দের অর্থ কী? উত্তর: এর অর্থ হলো— তিনি ভ্রু কুঁচকালেন।
৫. এই সূরার নামকরণের কারণ কী? উত্তর: সূরার প্রথম শব্দ ‘আবাসা’ থেকেই এর নামকরণ করা হয়েছে।
৬. কোন সাহাবীর কারণে এই সূরাটি অবতীর্ণ হয়? উত্তর: অন্ধ সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)।
৭. ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) কার আত্মীয় ছিলেন? উত্তর: তিনি হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা.)-এর মামাতো ভাই ছিলেন।
৮. রাসূল (সা.) কেন অন্ধ সাহাবীর প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি? উত্তর: তিনি তখন কুরাইশ নেতাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে গভীরভাবে ব্যস্ত ছিলেন।
৯. রাসূল (সা.) কাদের সাথে কথা বলার সময় এই ঘটনা ঘটে? উত্তর: কুরাইশ নেতা উতবা ইবনে রাবীআহ, আবু জাহেল এবং আব্বাস (রা.)-এর সাথে।
১০. সূরার প্রথম ১০ আয়াতে রাসূল (সা.)-কে কী করা হয়েছে? উত্তর: একজন অন্ধ ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করে ধনীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণে মৃদু তিরস্কার করা হয়েছে।
কুরআনের মর্যাদা ও ফেরেশতাদের বর্ণনা
১১. ‘পটরশুদ্ধ হওয়া’ (یَزَّكَّى) বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: দ্বীনের আলোয় হৃদয় পবিত্র করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
১২. সূরার ১১-১৬ আয়াতে কিসের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে? উত্তর: এখানে কুরআনের গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
১৩. কুরআন কোথায় লিপিবদ্ধ আছে? উত্তর: অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন, উচ্চ এবং পবিত্র সহীফাসমূহে।
১৪. ‘সাফারাহ’ (سفرة) বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? উত্তর: লওহে মাহফুজ থেকে ওহী বহনকারী মর্যাদাবান ফেরেশতাদের।
১৫. ফেরেশতাদের গুণাবলি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: তাঁরা ‘কিরামুম বারারাহ’ অর্থাৎ অত্যন্ত সম্মানিত ও পুণ্যবান।
১৬. হিদায়াতের মালিক কে? উত্তর: হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ; রাসূলের দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া।
মানুষের সৃষ্টি ও আল্লাহর নেয়ামত
১৭. মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রধান অভিযোগ কী? উত্তর: মানুষ আল্লাহর অগনিত নেয়ামত পাওয়ার পরও চরম অকৃতজ্ঞ।
১৮. মানুষকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? উত্তর: অতি তুচ্ছ শুক্ৰবিন্দু (নুতফাহ) থেকে।
১৯. ‘ক্বাদারাহ’ (قدَّره) শব্দের অর্থ কী? উত্তর: মানুষের আকার-আকৃতি, বয়স এবং ভাগ্য সুপরিমিতভাবে নির্ধারণ করা।
২০. মানুষের জীবন চলার পথ কে সহজ করেছেন? উত্তর: আল্লাহ তাআলা; তিনি মাতৃগর্ভ থেকে বের হওয়া এবং জীবনযাপনের পথ সহজ করেছেন।
২১. মানুষের মৃত্যু ও কবরস্থ করার মালিক কে? উত্তর: আল্লাহ তাআলা; তাঁর হুকুমেই মানুষের মৃত্যু হয় এবং কবরে সম্মান লাভ করে।
২২. আল্লাহ মানুষের খাদ্যের জন্য কী বর্ষণ করেন? উত্তর: আকাশ থেকে প্রচুর পানি বা বৃষ্টি।
২৩. ‘আব্বা’ (أبّا) শব্দের অর্থ কী? উত্তর: গবাদি পশুর তৃণলতা বা চারণভূমি।
২৪. সূরায় বর্ণিত কয়েকটি খাদ্যের নাম কী? উত্তর: শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, যয়তুন ও খেজুর।
২৫. বাগান ও বৃক্ষরাজি সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী? উত্তর: মানুষ ও তাদের চতুষ্পদ জন্তুর ভোগ ও জীবনধারণ।
কিয়ামতের ভয়াবহতা ও মানুষের পরিণতি
২৬. ‘আস-সাখখাহ’ (الصاخّة) শব্দের অর্থ কী? উত্তর: কিয়ামতের সেই তীব্র আওয়াজ যা কান বধির করে দেয়।
২৭. কিয়ামতের দিন মানুষ কার কাছ থেকে পলায়ন করবে? উত্তর: নিজের ভাই, মা, বাবা, স্ত্রী এবং সন্তান থেকে।
২৮. মানুষ কেন সেদিন আপনজনদের ছেড়ে পালাবে? উত্তর: প্রত্যেকেই নিজের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং অন্যের হক আদায়ের ভয়ে থাকবে।
২৯. কিয়ামতের দিন কয় ধরনের চেহারা দেখা যাবে? উত্তর: দুই ধরনের; উজ্জ্বল-প্রফুল্ল এবং ধূলিমলিন-অন্ধকারাচ্ছন্ন।
৩০. জান্নাতীদের চেহারার বর্ণনা কেমন দেওয়া হয়েছে? উত্তর: তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল, সহাস্য এবং আনন্দিত।
৩১. কাফির ও পাপাচারীদের চেহারা কেমন হবে? উত্তর: তাদের চেহারা হবে কালিমাচ্ছন্ন, ধূলিমলিন এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন।
৩২. এই সূরার শেষ শব্দ কোনটি? উত্তর: ‘আল-ফাজারাহ’ (الفجرة) যার অর্থ পাপাচারী।
বিবিধ ও শিক্ষা
৩৩. আলিমদের জন্য এই সূরায় কী শিক্ষা রয়েছে? উত্তর: তাঁরা যেন ধনীদের চেয়ে সাধারণ মুমিনদের হিদায়াতের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন।
৩৪. দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইসলামের মূল নীতি কী? উত্তর: ধনী-দরিদ্র বা উঁচু-নিচু ভেদাভেদ না করা।
৩৫. ‘ইস্তাগনা’ (استغنى) শব্দের অর্থ কী? উত্তর: নিজেকে অমুখাপেক্ষী বা বেপরোয়া মনে করা।
৩৬. রাসূল (সা.) ধমক পাওয়ার পর ইবনে উম্মে মাকতুমার সাথে কেমন ব্যবহার করতেন? উত্তর: তিনি তাঁকে খুব সম্মান করতেন এবং বলতেন— ‘স্বাগতম তাকে, যার কারণে আমার রব আমাকে তিরস্কার করেছেন।’
৩৭. ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) মদীনার কি দায়িত্ব পালন করেছিলেন? উত্তর: রাসূল (সা.) যুদ্ধে গেলে অনেকবার তাঁকে মদীনার অস্থায়ী আমীর বা ইমামের দায়িত্ব দিয়ে যেতেন।
৩৮. এই সূরার মূল বিষয়বস্তু কয়টি? উত্তর: মূলত চারটি বিষয়।
৩৯. যারা কুরআন পাঠে দক্ষ, তাদের মর্যাদা কী? উত্তর: তারা কিয়ামতের দিন পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথী হবে।
৪০. কিয়ামতের দিন মানুষ পুনরায় জীবিত হবে শরীরের কোন অংশ থেকে? উত্তর: মেরুদণ্ডের নিচের একটি ছোট অস্থি (আজবুয যানাব) থেকে।
৪১. মানুষের অকৃতজ্ঞতা দূর করার উপায় কী? উত্তর: নিজের সৃষ্টির তুচ্ছতা এবং আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে চিন্তা করা।
৪২. কিয়ামতের দিন মানুষের কি লজ্জা থাকবে? উত্তর: অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে কারো দিকে তাকানোর হুঁশ বা লজ্জা থাকবে না।
৪৩. ‘আবাসা’ শব্দে সরাসরি ‘তুমি’ না বলে ‘তিনি’ (নাম পুরুষ) কেন বলা হয়েছে? উত্তর: রাসূল (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর কষ্টের তীব্রতা কমানোর জন্য।
৪৪. ইবনে উম্মে মাকতুমের পিতার নাম কী ছিল? উত্তর: কায়স ইবনে যায়েদাহ।
৪৫. দুই শিঙায় ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময় কত? উত্তর: হাদীস অনুযায়ী এটি ‘চল্লিশ’ (বছর/মাস)।
৪৬. সূরা আবাসার প্রথম ১০ আয়াতের মূল শিক্ষা কী? উত্তর: দ্বীন শিক্ষার আগ্রহীকে অবজ্ঞা না করা।
৪৭. ‘বারারাহ’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: পুণ্যবান বা নেককার।
৪৮. ‘ছুম্মা আমাতাহু ফা-আকবারাহ’ আয়াতের অর্থ কী? উত্তর: অতঃপর তিনি তার মৃত্যু দেন ও কবরস্থ করেন।
৪৯. সূরার শেষে কাফিরদের কী বলা হয়েছে? উত্তর: ‘উলাইকা হুমুল কাফারাতুল ফাজারাহ’ (তারাই কুফরীকারী ও পাপাচারী)।
৫০. সূরা আবাসার প্রধান শিক্ষা কী? উত্তর: আল্লাহর কাছে আভিজাত্যের চেয়ে তাকওয়া বা পরহেযগারীর মূল্য অনেক বেশি।
আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড হিসেবে কাজ করবে। সংকলন: আলাউদ্দিন রাহমানি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ