সূরা আত-তাকভীর: কিয়ামতের ভয়াবহতা ও গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি প্রশ্নোত্তর

সূরা আত-তাকভীর: পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১. সূরা আত-তাকভীর কত নম্বর সূরা? উত্তর: এটি কুরআনের ৮১ তম সূরা।
২. এই সূরার আয়াত ও রুকু সংখ্যা কত? উত্তর: এর আয়াত সংখ্যা ২৯ এবং রুকু সংখ্যা ১।
৩. সূরা আত-তাকভীর মাক্কী নাকি মাদানী? উত্তর: এটি একটি মাক্কী সূরা।
৪. 'তাকভীর' শব্দের অর্থ কী? উত্তর: এর অর্থ হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়া বা গুটিয়ে নেওয়া।
৫. সূরার নামকরণ করা হয়েছে কোন শব্দ থেকে? উত্তর: সূরার প্রথম বাক্যের ‘কুওভিরাত’ (কুর্ত) শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে।
৬. এই সূরার অপর নাম কী? উত্তর: একে ‘সূরা ইযাশ শামসু কুওভিরাত’ নামেও ডাকা হয়।
৭. সূরার প্রধান বিষয়বস্তু কয়টি ও কী কী? উত্তর: বিষয়বস্তু দুটি: আখেরাত ও রিসালাত।
কিয়ামতের ভয়াবহতা ও মহাজাগতিক পরিবর্তন
৮. সূরায় কিয়ামতের কয়টি অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে? উত্তর: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ১২টি অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
৯. কিয়ামতের ১২টি অবস্থার মধ্যে কয়টি দুনিয়ায় এবং কয়টি আখেরাতে ঘটবে? উত্তর: ৬টি দুনিয়াতে এবং ৬টি আখেরাতে ঘটবে।
১০. কিয়ামতের সময় সূর্যের অবস্থা কী হবে? উত্তর: সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে বা গুটিয়ে নেওয়া হবে।
১১. নক্ষত্রসমূহের কী অবস্থা হবে? উত্তর: নক্ষত্রসমূহ খসে পড়বে বা আলোহীন হয়ে যাবে।
১২. পাহাড়সমূহের পরিণতি কী হবে? উত্তর: পাহাড়সমূহ উৎপাটিত হয়ে ধূলিকণার মতো উড়তে থাকবে বা চলমান করা হবে।
১৩. ‘ইশার’ (العشار) বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: দশ মাসের গর্ভবতী উটনী, যা আরবদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।
১৪. কিয়ামতের দিন বন্য পশুদের কী করা হবে? উত্তর: বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে এবং তাদের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করা হবে।
১৫. সমুদ্রসমূহের কী অবস্থা হবে? উত্তর: সমুদ্রসমূহ অগ্নিময় হয়ে উঠবে বা উত্তপ্ত করা হবে।
বিচার দিবস ও সামাজিক সংস্কার
১৬. কিয়ামতের দ্বিতীয় পর্বে আত্মা ও শরীরের কী হবে? উত্তর: আত্মাকে পুনরায় শরীরের সাথে সংযুক্ত করা হবে।
১৭. ‘মাওউদা’ (الموؤدة) কে? উত্তর: যাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে এমন কন্যা সন্তান।
১৮. জাহেলী যুগে আরবরা কেন কন্যা সন্তান হত্যা করত? উত্তর: ধর্মীয় কুসংস্কার, দারিদ্র্যের ভয় এবং সামাজিক লজ্জার কারণে।
১৯. কিয়ামতের দিন আমলনামার অবস্থা কী হবে? উত্তর: মানুষের আমলনামা উন্মোচিত বা খুলে দেওয়া হবে।
২০. আকাশের আবরণ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: আকাশের আবরণ অপসারিত করা হবে, যেমন পশুর চামড়া ছাড়ানো হয়।
২১. জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: জাহান্নামকে ভীষণভাবে প্রজ্বলিত করা হবে এবং জান্নাতকে জান্নাতবাসীদের নিকটবর্তী করা হবে।
শপথ, জিবরাঈল (আঃ) ও কুরআনের সত্যতা
২২. আল্লাহ সূরার শেষে কোন কোন বস্তুর শপথ করেছেন? উত্তর: পাঁচটি নক্ষত্র (খুন্নাস), রাত এবং প্রভাতের শপথ করেছেন।
২৩. কুরআনকে কার বাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? উত্তর: সম্মানিত বাণীবাহক জিবরাঈল (আ.)-এর আনীত বাণী।
২৪. জিবরাঈল (আ.)-এর কয়েকটি গুণ কী কী? উত্তর: তিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাবান, মান্যবর এবং বিশ্বাসভাজন।
২৫. মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কাফেরদের অভিযোগের জবাবে কী বলা হয়েছে? উত্তর: তিনি উন্মাদ নন, বরং তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে উজ্জ্বল দিগন্তে সচক্ষে দেখেছেন।
২৬. কুরআন কার জন্য উপদেশ? উত্তর: এটি বিশ্বজগতের মানুষের জন্য উপদেশ, বিশেষ করে যারা সরল পথে চলতে চায়।
২৭. মানুষের ইচ্ছা কার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল? উত্তর: বিশ্বজগতের রব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর।
ফজিলত ও শিক্ষা
২৮. কিয়ামত দিবস স্বচক্ষে দেখতে চাইলে রাসূল (সা.) কোন সূরাগুলো পড়তে বলেছেন? উত্তর: সূরা আত-তাকভীর, আল-ইনফিতার এবং আল-ইনশিকাক।
২৯. রাসূল (সা.)-এর চুল সাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে এই সূরার ভূমিকা কী? উত্তর: কিয়ামতের ভয়াবহ বর্ণনার কারণে সূরা হূদ ও আত-তাকভীরসহ কয়েকটি সূরা রাসূল (সা.)-এর চুল সাদা করে দিয়েছে।
৩০. এই সূরার মূল শিক্ষা কী? উত্তর: আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা, জিবরাঈল (আঃ) ও রাসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে আসা ওহীর ওপর বিশ্বাস রাখা এবং আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা।
৩১. জিবরাঈল (আ.)-এর চারটি গুণ কী কী? উত্তর: তিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাবান, সবার মান্যবর এবং বিশ্বাসভাজন।
৩২. মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কাফেরদের অভিযোগের জবাব কী ছিল? উত্তর: তিনি উন্মাদ বা পাগল নন, বরং তিনি আল্লাহর সত্য রাসূল।
৩৩. মুহাম্মদ (সা.) জিবরাঈল (আ.)-কে কোথায় দেখেছিলেন? উত্তর: উন্মুক্ত আকাশের দিগন্তে উজ্জ্বল আলোয় নিজের চোখে দেখেছিলেন।
৩৪. জিবরাঈল (আ.)-এর কয়টি ডানা ছিল বলে বর্ণনায় এসেছে? উত্তর: ৬০০টি ডানা।
৩৫. কুরআন কি শয়তানের বাণী? উত্তর: না, এটি কোনো অভিশপ্ত শয়তানের বাক্য নয়।
৩৬. কুরআন কার জন্য উপদেশ? উত্তর: এটি বিশ্বজগতের মানুষের জন্য উপদেশ।
৩৭. কারা কুরআন থেকে হেদায়াত পাবে? উত্তর: যারা সরল পথে চলতে চায়।
৩৮. মানুষের ইচ্ছা কার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল? উত্তর: বিশ্বজগতের রব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর।
সূরার ফজিলত ও রাসূল (সাঃ)-এর হাদিস
৩৯. রাসূল (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজে এই সূরার সাথে কোন সূরা মেলাতেন? উত্তর: সূরা আদ-দুখানের সাথে এটি মিলিয়ে পড়তেন।
৪০. কোন সাহাবী এই সূরাটি ফজরের নামাজে রাসূল (সা.)-কে পড়তে শুনেছেন? উত্তর: আমর ইবনে হুরাইস (রা.)।
৪১. রাসূল (সা.)-এর চুল সাদা হয়ে যাওয়ার কারণ কোন সূরাগুলো? উত্তর: সূরা হূদ, ওয়াকিয়াহ, মুরসালাত, নাবা এবং আত-তাকভীর।
৪২. কিয়ামত দিবস স্বচক্ষে দেখতে চাইলে কোন সূরাগুলো পড়তে বলা হয়েছে? উত্তর: আত-তাকভীর, আল-ইনফিতার এবং আল-ইনশিকাক।
৪৩. পূর্ববর্তী সূরা ‘আবাসা’র সাথে এই সূরার মিল কী? উত্তর: উভয় সূরায় কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে।
গভীর শিক্ষা ও সামাজিক প্রভাব
৪৪. সূর্যের ওপর মানুষের উপাসনা বাতিলের প্রমাণ কী? উত্তর: কিয়ামতের দিন সূর্যের আলোহীন হওয়া প্রমাণ করে সে উপাস্য নয়।
৪৫. পাহাড়গুলো কিয়ামতের দিন কীসের মতো হবে? উত্তর: ধুনিত তুলার মতো বা বালুকাস্তূপের মতো হয়ে যাবে।
৪৬. পশু-পাখিদের বিচারের পর তাদের পরিণতি কী হবে? উত্তর: তাদের বলা হবে ‘মাটি হয়ে যাও’, এবং তারা মাটি হয়ে যাবে।
৪৭. ইসলামের একটি বিরাট অবদান কন্যা সন্তানদের ক্ষেত্রে কী? উত্তর: কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়া বন্ধ করা এবং তাদের লালন-পালনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
৪৮. কন্যা সন্তান লালন-পালনের সওয়াব কী? উত্তর: এটি জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার কারণ এবং জান্নাতে রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের উপায়।
৪৯. ‘ইস্তিকামাত’ (استقامت) কী? উত্তর: সত্যের ওপর বা তাওহীদের ওপর দৃঢ় থাকা।
৫০. আল্লাহর কোন ধরনের ইচ্ছায় ভালো কাজ সংঘটিত হয়? উত্তর: আল্লাহর ‘শরীয়তগত ইচ্ছা’র মাধ্যমে।
সাওয়াবের নিয়তে শেয়ার করুন।‌ সংকলন: islambd360 website

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ