সূরা বাকারার ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর: কুরআন অলিম্পিয়াড স্পেশাল গাইড

সূরা বাকারার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

কুরআন অলিম্পিয়াড প্রস্তুতি (গ্রুপ-গ)

১. ঈমান, কুফর ও নিফাক (মুনাফিক)
১. কুরআন কোন ধরনের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক? উত্তর: কুরআন পরহেযগার বা মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক।
২. মুত্তাকীদের প্রধান গুণাবলী কী কী? উত্তর: তারা অদেখা বিষয়ের (গায়েব) ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করে।
৩. কাফেরদের পরিণতি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: তাদের ভয় প্রদর্শন করা হোক বা না হোক, তারা ঈমান আনবে না এবং তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে।
৪. মুনাফিকরা যখন বলে তারা ঈমান এনেছে, তখন আল্লাহ কী বলেন? উত্তর: আল্লাহ বলেন যে, তারা আদৌ ঈমানদার নয় এবং তারা নিজেদেরই ধোঁয়া দিচ্ছে।
৫. মুনাফিকদের অন্তরের অবস্থা কেমন? উত্তর: তাদের অন্তকরণ ব্যাধিগ্রস্ত এবং তাদের মিথ্যাচারের কারণে আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
৬. পৃথিবীতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সম্পর্কে মুনাফিকদের দাবি কী? উত্তর: তারা দাবি করে যে তারা মীমাংসাকারী, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী।
৭. মুনাফিকরা যখন শয়তানদের (কুচক্রী নেতাদের) সাথে মিলিত হয় তখন কী বলে? উত্তর: তারা বলে, "আমরা তোমাদের সাথেই রয়েছি, আমরা তো মুমিনদের সাথে উপহাস করি মাত্র"।
৮. হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করার ফলাফল কী? উত্তর: তারা তাদের এই ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করেনি।
৯. কাফেরদের বধির, মূক ও অন্ধ বলা হয়েছে কেন? উত্তর: কারণ তারা সত্যের পথে ফিরে আসবে না।
১০. আল্লাহ মানুষকে কার ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন? উত্তর: পালনকর্তার (আল্লাহর) ইবাদত করতে বলা হয়েছে, যিনি আমাদের ও পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন।
১১. কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে যাদের সন্দেহ আছে তাদের প্রতি আল্লাহর চ্যালেঞ্জ কী? উত্তর: কুরআনের মত একটি সুরা রচনা করে নিয়ে আসা এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্যকারীদের আহ্বান করা।
১২. জাহান্নামের আগুনের জ্বালানী কী হবে? উত্তর: মানুষ ও পাথর।
১৩. মুমিন ও সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতের পুরস্কার কী? উত্তর: এমন জান্নাত যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং যেখানে তারা পবিত্র সঙ্গিনী ও চিরকাল বসবাসের সুযোগ পাবে।
১৪. আল্লাহ মশার উপমা দিতে লজ্জাবোধ করেন না কেন? উত্তর: কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের সত্যের সন্ধান দেন এবং ফাসেকদের বিপথগামী করেন।
১৫. ক্ষতিগ্রস্ত লোক কারা? উত্তর: যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে।
২. আদম (আঃ) ও জান্নাতের কথা
১৬. আল্লাহ আদমকে (আঃ) কী শিখিয়েছিলেন যা ফেরেশতারা জানত না? উত্তর: সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম।
১৭. ইবলীস কেন কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হলো? উত্তর: সে আদমকে (আঃ) সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল এবং অহংকার প্রদর্শন করেছিল।
১৮. জান্নাতে আদম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল? উত্তর: একটি নির্দিষ্ট গাছের নিকটবর্তী হওয়া।
১৯. শয়তান আদম ও হাওয়াকে জান্নাত থেকে বের করতে কী করেছিল? উত্তর: সে তাদের উভয়কে পদস্খলিত করেছিল।
৩. বনী-ইসরাঈল ও মূসা (আঃ)-এর ঘটনাবলি
২০. বনী-ইসরাঈলদের প্রতি আল্লাহর প্রধান নির্দেশ কী ছিল? উত্তর: আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করা, প্রতিজ্ঞা পূরণ করা এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে না মেশানো।
২১. বিপদে কার মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে? উত্তর: ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে।
২২. ফেরআউনের কবল থেকে বনী-ইসরাঈলদের কীভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল? উত্তর: আল্লাহ সাগরকে দ্বিখণ্ডিত করে তাদের বাঁচিয়েছিলেন এবং ফেরআউনের বাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।
২৩. মূসা (আঃ) যখন তূর পাহাড়ে চল্লিশ রাত ছিলেন, তখন তাঁর সম্প্রদায় কী করেছিল? উত্তর: তারা গোবৎস (বাছুর) পূজা শুরু করেছিল।
২৪. মূসা (আঃ) যখন তাঁর জাতির জন্য পানি চাইলেন তখন কী অলৌকিক ঘটনা ঘটল? উত্তর: লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করার পর বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো।
২৫. বনী-ইসরাঈলরা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে কী চেয়েছিল? উত্তর: তারা শাক-সবজি, কাকড়ী, গম, মসুরি ও পেঁয়াজ চেয়েছিল।
২৬. শনিবারের (সাবত) মর্যাদা লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি কী ছিল? উত্তর: তাদের লাঞ্ছিত বানরে পরিণত করা হয়েছিল।
২৭. বনী-ইসরাঈলদের কোন ধরনের গাভী জবাই করতে বলা হয়েছিল? উত্তর: গাঢ় পীতবর্ণের গাভী, যা বৃদ্ধ নয়, কুমারীও নয় এবং খুঁতহীন।
২৮. যারা আল্লাহর বাণী শুনেও পরিবর্তন করে দেয় তাদের সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: তারা জেনে-শুনে আল্লাহর বাণী বিকৃত করে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
২৯. জান্নাতি হওয়ার শর্ত কী? উত্তর: যারা ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে।
৩০. বনী-ইসরাঈলদের কাছ থেকে কী কী অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল? উত্তর: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, পিতা-মাতা ও এতিমদের সাথে সদ্ব্যবহার করা, নামায পড়া ও যাকাত দেওয়া।
৩১. হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয় বাবেল শহরে কী নিয়ে এসেছিলেন? উত্তর: তারা মানুষের পরীক্ষার জন্য জাদু নিয়ে এসেছিলেন।
৪. শরিয়তের বিধান ও ইবাদত
৩২. মুসলমানদের কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ কী ছিল? উত্তর: মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করা।
৩৩. আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের কী বলা নিষিদ্ধ? উত্তর: তাদের 'মৃত' বলা নিষিদ্ধ, কারণ তারা জীবিত।
৩৪. আল্লাহ মানুষকে কী কী দিয়ে পরীক্ষা করেন? উত্তর: ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসলের বিনষ্টের মাধ্যমে।
৩৫. সাফা ও মারওয়া পাহাড় সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? উত্তর: এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
৩৬. মানুষের জন্য কোন কোন খাবার হারাম করা হয়েছে? উত্তর: মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা পশু।
৩৭. কেসাস বা হত্যার বদলে হত্যার বিধান কেন দেওয়া হয়েছে? উত্তর: যাতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৩৮. রোজা কেন ফরয করা হয়েছে? উত্তর: যাতে মানুষ পরহেযগারী বা তাকওয়া অর্জন করতে পারে।
৩৯. রমজান মাসের গুরুত্ব কী? উত্তর: এই মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছে।
৪০. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রার্থনার উত্তর দেন কি? উত্তর: হ্যাঁ, আল্লাহ বান্দার অতি নিকটে এবং প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন।
৪১. হজ্জের সময় কোন কাজগুলো করা নিষিদ্ধ? উত্তর: স্ত্রী সহবাস, অশোভন কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ করা।
৪২. 'দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ' চাওয়ার দোয়াটি কী? উত্তর: "হে পরওয়ারডেগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর"।
৫. তাওহীদ, দান ও ঋণের বিধান
৪৩. 'আয়াতুল কুরসি'র মূল বিষয়বস্তু কী? উত্তর: আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর চিরস্থায়ী সত্তা এবং তাঁর অসীম জ্ঞান ও ক্ষমতার বর্ণনা।
৪৪. দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি আছে কি? উত্তর: দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।
৪৫. দানের সওয়াব নষ্ট হয় কীভাবে? উত্তর: খোঁটা দিলে বা দান করার পর কষ্ট দিলে।
৪৬. শয়তান মানুষকে কিসের ভয় দেখায়? উত্তর: অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়।
৪৭. সুদের (রিবাহ) পরিণতি কী? উত্তর: আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সুদখোররা আল্লাহর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
৪৮. ঋণের লেনদেনের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ কী? উত্তর: তা লিপিবদ্ধ করে রাখা এবং সাক্ষী রাখা।
৪৯. আল্লাহ মানুষের ওপর কতটুকু দায়িত্ব অর্পণ করেন? উত্তর: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত বা ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজের ভার দেন না।
৫০. সুরা বাকারার শেষ আয়াতে কাফেরদের বিরুদ্ধে কী প্রার্থনা করা হয়েছে? উত্তর: "তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ