পবিত্র কুরআন সংকলন ও সংরক্ষণের ইতিহাস
কুরআন অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. রাসূল (সা.)-এর যুগ ও প্রাথমিক সংরক্ষণ
১. কুরআন সংকলন ও সংরক্ষণের মোট কয়টি পর্যায় বা যুগ রয়েছে?
উত্তর: মোট ৩টি পর্যায় বা যুগ রয়েছে।
২. রাসূল (সা.)-এর যুগে কুরআন সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম কী ছিল?
উত্তর: ১. হিফজ বা মুখস্থ করা, ২. ওহী লেখকদের দ্বারা লিখে রাখা এবং ৩. আমলের মাধ্যমে সংরক্ষণ।
৩. রাসূল (সা.)-এর যুগে কতজন ওহী লেখক (কাতেবে ওহী) নিযুক্ত ছিলেন?
উত্তর: ৪০ থেকে ৪২ জন।
৪. রাসূল (সা.)-এর সময়ে ওহী লেখার জন্য কী কী উপকরণ ব্যবহৃত হতো?
উত্তর: কাগজ, পাথর, চামড়া, খেজুরের ডাল, বাঁশের টুকরো, গাছের পাতা এবং পশুর হাড়।
৫. রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশায় কি কুরআনের কোনো পূর্ণাঙ্গ কপি প্রস্তুত ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, রাসূল (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে একটি কপি প্রস্তুত ছিল, তবে তা বর্তমানের মতো গ্রন্থাকারে ছিল না।
৬. রাসূল (সা.) কেন কুরআন নিয়ে শত্রুদের ভূখণ্ডে সফর করতে নিষেধ করেছিলেন?
উত্তর: কুরআনের কপির নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার্থে।
৭. কুরআনের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হাফেজ সাহাবীর নাম কী?
উত্তর: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে সাবেত, আয়েশা ও হাফসা (রা.) প্রমুখ।
৮. রাসূল (সা.)-এর যুগে কোনো আয়াত নাযিল হলে সাহাবীগণ সাথে সাথে কী করতেন?
উত্তর: তাঁরা সাথে সাথে সেই আয়াতের ওপর আমল করতেন এবং তা হিফজ করতেন।
৯. হিফজ করার মাধ্যমে কুরআন কোথায় সংরক্ষিত হতো?
উত্তর: সাহাবীগণের অন্তরে।
১০. রাসূল (সা.)-এর যুগে কুরআন কি পুস্তিকাকারে ছিল?
উত্তর: না, তখন তা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন উপকরণের ওপর লেখা ছিল।
২. হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগ
১১. কার শাসনকালে কুরআন প্রথম গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে।
১২. কোন যুদ্ধের পর কুরআন সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়?
উত্তর: ইয়ামামার যুদ্ধের পর।
১৩. ইয়ামামার যুদ্ধে কারীদের শাহাদাত দেখে কে চিন্তিত হয়ে পড়েন?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)।
১৪. হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন সংকলনের প্রস্তাব কে দিয়েছিলেন?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)।
১৫. আবু বকর (রা.) শুরুতে কেন সংকলনে রাজি হননি?
উত্তর: কারণ এই কাজটি রাসূল (সা.) নিজে করে যাননি।
১৬. আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের প্রধান দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়?
উত্তর: যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)-কে।
১৭. যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) কোন কোন উৎস থেকে কুরআন সংগ্রহ করেন?
উত্তর: খেজুর পাতা, প্রস্তর খণ্ড এবং মানুষের স্মৃতি থেকে।
১৮. আবু বকর (রা.)-এর সময় সংকলিত কপিটি তাঁর মৃত্যুর পর কার কাছে ছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর কাছে।
১৯. উমর (রা.)-এর মৃত্যুর পর কুরআনের সেই মূল কপিটি কার কাছে রাখা হয়?
উত্তর: উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা (রা.)-এর কাছে।
২০. যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) কি শুরুতে এই দায়িত্ব গ্রহণে ইতস্তত করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, বড় দায়িত্ব হওয়ায় তিনিও শুরুতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।
৩. হযরত উসমান (রা.)-এর যুগ ও প্রামাণ্য সংস্করণ
২১. উসমান (রা.)-এর যুগে কেন নতুন করে কুরআন সংকলনের প্রয়োজন হলো?
উত্তর: পঠনরীতি বা লাহজার ভিন্নতা ও অসংলগ্নতা দূর করার জন্য।
২২. উসমান (রা.) কার কাছ থেকে কুরআনের মূল কপিটি চেয়ে পাঠিয়েছিলেন?
উত্তর: হযরত হাফসা (রা.)-এর কাছ থেকে।
২৩. উসমান (রা.)-এর গঠিত সংকলন কমিটির প্রধান ৪ জন সদস্যের নাম কী?
উত্তর: যায়েদ ইবনে সাবেত, আব্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের, সাঈদ ইবনে আস এবং আব্দুর রহমান ইবনে হারেস (রা.)।
২৪. সংকলন করার সময় কোনো দ্বিমত দেখা দিলে কোন ভাষাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছিল?
উত্তর: কুরাইশদের ভাষাকে।
২৫. উসমান (রা.)-এর সংকলন শেষে মূল কপিটি কোথায় ফেরত দেওয়া হয়?
উত্তর: পুনরায় হযরত হাফসা (রা.)-এর কাছে।
২৬. উসমান (রা.)-এর সময়ে কুরআনের কতটি কপি করা হয়েছিল?
উত্তর: প্রামাণ্য সাতটি কপি তৈরি করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানো হয়েছিল।
২৭. উসমান (রা.)-এর উদ্যোগের ফলে কী নিশ্চিত হয়েছিল?
উত্তর: বিশ্বজুড়ে কুরআনের এক ও অভিন্ন পঠনরীতি নিশ্চিত হয়েছিল।
২৮. কুরআন কি শুধু এক পদ্ধতিতেই পাঠ করা সম্ভব?
উত্তর: না, এটি সাতটি উপ-ভাষায় বা পদ্ধতিতে পাঠ করা যায়।
২৯. কুরআন মূলত কোন গোত্রের ভাষায় নাযিল হয়েছে?
উত্তর: কুরাইশ গোত্রের ভাষায়।
৩০. সাহাবীদের সংকলিত কুরআনের বিশুদ্ধতা নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা অবান্তর?
উত্তর: কারণ স্বয়ং আল্লাহ এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।
৪. উমর (রা.)-এর ইলহাম ও আনুষঙ্গিক সংস্কার
৩১. উমর (রা.)-কে রাসূল (সা.) কী উপাধি দিয়েছিলেন?
উত্তর: 'মুহাদ্দাস' বা বিশেষ জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
৩২. 'মুহাদ্দাস' শব্দের তাৎপর্য কী?
উত্তর: যাঁর চিন্তা ও কথার সাথে ওহীর সরাসরি মিল পাওয়া যায়।
৩৩. উমর (রা.)-এর মতের সাথে মিল রেখে নাযিল হওয়া একটি বিষয় কী?
উত্তর: নারীদের পর্দা প্রথা সংক্রান্ত বিধান।
৩৪. বদর যুদ্ধের বন্দীদের সম্পর্কে কার অভিমত ওহীর সাথে মিলেছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর।
৩৫. কুরআনে নুকতা বা বিন্দু দেওয়ার প্রচলন কে করেন?
উত্তর: হযরত আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়াইলি (রাহ.)।
৩৬. কার নির্দেশে নুকতার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল?
উত্তর: হযরত আলী (রা.)-এর নির্দেশে।
৩৭. হরকত (জের, জবর, পেশ) প্রবর্তনে কার অবদান স্বীকৃত?
উত্তর: হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
৩৮. হরকতের কাজ যারা সম্পন্ন করেন তাঁদের নাম কী?
উত্তর: হাসান বসরী ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মার (রাহ.)।
৩৯. হামযা ও তাশদীদের চিহ্ন কে উদ্ভাবন করেন?
উত্তর: খলীল ইবনে আহমদ ফারাহিদী (রাহ.)।
৪০. কুরআনকে ৩০ পারায় বিভক্ত করার কাজ কার সময়ে হয়েছে?
উত্তর: হযরত উসমান (রা.)-এর সময়ে।
৫. কুরআন মুদ্রণের ইতিহাস ও সাধারণ তথ্য
৪১. কুরআনের 'মানজিল' কেন করা হয়েছে?
উত্তর: সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করার সুবিধার্থে সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
৪২. মুদ্রণ যন্ত্রের আগে কুরআন কীভাবে সংরক্ষণ করা হতো?
উত্তর: ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে হাতে লিখে।
৪৩. সর্বপ্রথম কোথায় কুরআন মুদ্রিত হয়?
উত্তর: জার্মানির হামবুর্গ শহরে (১১১৩ হিজরিতে)।
৪৪. হামবুর্গে মুদ্রিত সেই ঐতিহাসিক কপিটি বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত?
উত্তর: মিশরের 'দারুল কুতুব' লাইব্রেরিতে।
৪৫. মুসলমানদের উদ্যোগে প্রথম কোথায় কুরআন মুদ্রিত হয়?
উত্তর: রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে (১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দে)।
৪৬. ভারতের প্রথম কোথায় কুরআন মুদ্রিত হয়?
উত্তর: কলকাতায় (১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে)।
৪৭. লিথু মুদ্রণ যন্ত্রে কুরআন প্রথম কোথায় ছাপা হয়?
উত্তর: ইরানের তেহরানে (১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে)।
৪৮. আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে নিখুঁত কুরআন মুদ্রণ কেন্দ্র কোনটি?
উত্তর: মদিনার 'কিং ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স'।
৪৯. কুরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াত করলে কতটি নেকি পাওয়া যায়?
উত্তর: ১০টি নেকি।
৫০. আল্লাহ কুরআনের সংরক্ষণের নিশ্চয়তা কোন আয়াতে দিয়েছেন?
উত্তর: "নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" (সূরা হিজর: ৯)।
পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত এই কিতাব অবিকৃত রাখার যে ওয়াদা করেছেন, তা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার জ্ঞান বৃদ্ধিতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হলে আমাদের শ্রম সার্থক হবে।"
0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।