হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি: জাহাজ এলে আগুন দেওয়ার ঘোষণা ইরানের
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | বিভাগ: আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা সামরিকভাবে প্রতিহত করা হবে এবং প্রয়োজনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
![]() |
| সূত্র: Tasnim News Agency |
হুঁশিয়ারির পেছনের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরান একে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। এরই প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।
আইআরজিসির উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি টেলিগ্রাম বার্তায় বলেন, শুধু প্রণালী নয়, তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হতে পারে। তার দাবি— “এক ফোঁটা তেলও এই অঞ্চল থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই সম্পন্ন হয়।
- বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্রবিন্দু
- এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট
- বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
যদি বাস্তবে প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হতে পারে:
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- শিপিং ও বাণিজ্য খাতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা
- মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি
- বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার চাপ বৃদ্ধি
চীনের কৌশলগত অবস্থান
চীন এই হামলার নিন্দা জানালেও সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং একদিকে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও অটুট রাখতে চায়। তাই তারা বর্তমানে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি গ্রহণ করেছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এটি কেবল সামরিক হুঁশিয়ারি নাকি বাস্তব পদক্ষেপের সূচনা— তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।