মাটির ঘর: অভাব আর ভালোবাসার এক নিঃশব্দ উপাখ্যান

মাটির ঘর — ধুলোমাটির জীবনের গল্প

ভাঙা বেড়ার ফাঁকে ঢোকে উত্তুরে হাওয়া, ছেঁড়া চটের উপর শীতের রাত কাটায় পরিবার। মায়ের কাঁথায় তালি আর তালির উপর তালি, তবু কাঁপে শরীর — উষ্ণতা কোথায় আর?
· · ·
বাবা গেছেন মাঠে — ভোরের অন্ধকারে, পেটের দায়ে রোদ মাথায় নিয়ে খাটেন সারাদিন। মজুরি মেলে না — শুধু মেলে মালিকের হুংকার, বুকের ভেতর চাপা কান্না, চোখে মরা জ্বালা।
· · ·
উনুনে জ্বলে না আগুন দুপুরে অনেকদিন, ছোট্ট মেয়ে জিজ্ঞেস করে — "মা, ভাত হবে কখন?" মা তাকায় শূন্যে — চোখে জমে অন্ধকার নদী, বলেন, "হবে মা, একটু পরে" — মিথ্যে দিয়ে আদর।
· · ·
বর্ষায় চুঁইয়ে পড়ে ছাদের মাটি, ভিজে যায় বিছানা, ভিজে যায় স্বপ্ন। তবু মা টেনে ধরেন ছেলেকে বুকের কাছে — ভেজা কাঁথায় মোড়ানো এক নিঃশব্দ ভালোবাসা।
· · ·
ছেলেটার স্কুলের খাতা শেষ হয়ে গেছে, পুরনো পাতায় আবার লেখে ঘষে ঘষে। স্বপ্ন দেখে রাতে — একদিন বড় হবে সে, এই অন্ধকার ভেঙে আলো আনবে ঘরে।


· · ·
জীর্ণ কুঁড়েঘর তবু বুকে ধরে রাখে, হাসি-কান্না-ক্ষুধার এক অদ্ভুত সংসার। দারিদ্র্য তাদের ভাঙে — কিন্তু মেরে ফেলতে পারে না, মাটির মানুষ মাটির মতোই — টিকে থাকে বারবার।

"যে ঘরে আলো নেই,
সেই ঘরেও মায়ের চোখ জ্বলে —
সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে।"

রচনায়: islambd360

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।