ওসমান হাদীর শাহাদাত: গণতান্ত্রিক সহিংসতার এক ধারাবাহিক চিত্র

ওসমান হাদীর শাহাদাত: গণতান্ত্রিক সহিংসতার এক ধারাবাহিক চিত্র

উসমান হাদী মৃত্যু ১৮/১২/২০২৫


আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, আপনারা কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। বর্তমান সময়ে ওসমান হাদীর ওপর হামলা, এরপর তিনি শহীদ হয়ে যাওয়া—এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জন নানা কথা বলছেন, নানা ধরনের রহস্যের উদ্ঘাটন করছেন। তবে আমি বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে বলতে চাই। শুধু ওসমান হাদীই নন, সামনে আরও অনেক হাদীকে খুন করা হবে। অতীতেও বহু হাদীকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার চেইন ততদিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতেই থাকবে, যতদিন মানুষ গণতন্ত্র নামক অন্ধকার সিস্টেম থেকে বের হয়ে না আসবে। গণতন্ত্র যে একটি জাহেলিয়াতপূর্ণ ব্যবস্থাপনা—এটা বুঝতে মুসলিম উম্মাহর এত কষ্ট হচ্ছে কেন? কোরআন, সুন্নাহ ও রাসূল ﷺ–এর আদর্শ থাকা সত্ত্বেও এই ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি মুখে উচ্চারণ করতে তাদের লজ্জা করে না—এটা ভেবে খুব আফসোস হয়। এই গণতন্ত্র যে সকল জুলুমের দরজা খুলে দেয়, তা কেন আমরা অনুভব করি না?

গণতান্ত্রিক সিস্টেমে ইলেকশনের জন্য কমপক্ষে দুইটি দল থাকতে হয়। এখন স্বাভাবিকভাবেই যেখানে হার-জিত রয়েছে, সেখানে এক দল অপর দলটির প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করবেই। পৃথিবীতে ৯৯ শতাংশ অপরাধে মানুষ জড়িয়ে পড়ে টাকা ও ক্ষমতার লোভে। আর এই দুইটাই পাওয়া যায় ইলেকশনের মাধ্যমে—রাষ্ট্রের মসনদে বসতে পারলেই। এর জন্য প্রতিপক্ষের মানুষকে হত্যা করা কার্যত বৈধ করে দেয় এই গণতন্ত্র। কত মানুষ খুন হয়েছে শুধুমাত্র বিএনপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগ হওয়ার কারণে। রাজনৈতিক কোনো দলের কর্মী হওয়াটাই যেন তাদের অপরাধ। তাদেরকে খুন করা এখন গণতান্ত্রিক সিস্টেমে বৈধ বলে ধরে নেওয়া হয়। মানুষও এটাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করে; তারা বলে—এটা রাজনৈতিক কারণ। এক দল আরেক দলকে খুন করবে, এটাই নাকি স্বাভাবিক।

২০১৪ সালের ইলেকশনের সময় দিনের বেলায় তিনজন যুবক রামদা নিয়ে দৌড়াচ্ছে এক জামায়াতকর্মীকে হত্যা করার জন্য। তার অপরাধ শুধু এটুকুই ছিল—সে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে গিয়েছিল। পুরো এলাকার মানুষ এই দৃশ্য দেখেছে, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলেনি। সবাই শুধু বলেছে—এটা রাজনৈতিক ব্যাপার। কেন যেন তাদের কাছে এগুলো কোনো অবৈধ কাজ মনে হয়নি। 

আরো পড়ুন যে চারটি কারণে শেখ হাসিনার ফাঁসি হচ্ছে

আরও কত হাজার হাজার মানুষ খুন হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কোনো দল করার কারণে। কত শিশু এতিম হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে। কত বাবা-মা সন্তান হারিয়ে দুঃখে কাঁদছে। কিন্তু তারপরও সমাজ এগুলোকে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিচ্ছে। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছে না, কেউ কথা বলছে না। খুব দুঃখ লাগে—মানুষ আর কতকাল এই অন্ধকারে পড়ে থাকবে? কে উদ্ধার করবে এই উম্মাহকে এই অন্ধকার থেকে? কবে হুঁশ ফিরে আসবে তাদের?

কিছু কিছু ভাই বলে থাকেন—আমরা তো শুধু গণতান্ত্রিক ইলেকশনটাই নিয়েছি। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন: জামায়াতের কোটি কোটি কর্মীর যে আমির, তিনি কি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আমির হয়েছেন? চরমোনাইয়ের কোটি কোটি মুরিদের যে আমির, তিনি কি মুরিদদের ভোটের মাধ্যমে আমির হয়েছেন? তাবলীগের লক্ষ লক্ষ সাথীর যে আমির, তিনি কি ভোটের মাধ্যমে হয়েছেন? আপনার মহল্লার মসজিদের যে ইমাম, তিনি কি মুসল্লিদের ভোটের মাধ্যমে ইমাম হন?

এই সব প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই ‘না’। তাহলে যে সিস্টেমে ইসলামের এই সেক্টরগুলোতে আমির নির্ধারিত হতে পারে, সেই একই সিস্টেমে রাষ্ট্রের প্রধানও নির্ধারিত হওয়া উচিত—যেটাকে বলা হয় শূরা পদ্ধতি। এখন হয়তো কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—এগুলো ছোটখাটো বিষয়, রাষ্ট্রের বিষয়টা অনেক বড়; সেখানে ইলেকশনের দরকার হয়, যেন সবাই ভোট দিতে পারে। এগুলোকে এর সাথে তুলনা করা যায় না। আমি বলব, দায়িত্ব যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া, সুতরাং সকল দায়িত্বই সমান।

লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন আপনাদের একটি কমেন্ট এবং শেয়ার। আমার কাজে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে । আর ভুল হলে অবশ্যই সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিবেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ

লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।