প্রথম আলো নিয়ে লেখালেখি করার কারণে র‍্যাবি হয়রানি: মাওলানা আইনুল হক প্রসঙ্গে হেফাজতের বিবৃতি

 

প্রথম আলো নিয়ে লেখালেখি করার কারণে মাওলানা আইনুল হক তরুণ লেখককে র্যাবে ধরে নিয়ে যায়।

এর প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আজ এক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

তা নিচে হুবহু তুলে ধরেছি 

তারিখ: ২৩-১২-২০২৫ই


নিরীহ সমালোচনাকারীদের গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না

প্রথম আলো–ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জারি থাকবে

মার্কিন ওয়ার অন টেরর-এর পিপাসু ও ভারতপন্থি পত্রিকা হিসেবে সমালোচিত প্রথম আলো–ডেইলি স্টারের হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেফতার বা নির্যাতন করা যাবে না জানিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাঈদুর রহমান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা আগেও বলেছি, মার্কিন ওয়ার অন টেরর-এর পিপাসু ও ভারতপন্থি হিসেবে সমালোচিত ও নিন্দিত প্রথম আলো–ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা সহিংস হওয়া আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু পত্রিকা দুটির হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেফতার কিংবা তুলে নিয়ে হয়রানি বা নির্যাতন করা যাবে না। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যারা নিরীহ সমালোচনাকারী, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। 

মাওলানা আইনুল হক 

অন্যথায় ভারতপন্থি পত্রিকা দুটির উপর বাংলাদেশি ছাত্র-জনতার ক্ষোভ বাড়বে বৈ কমবে না। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয়ে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা তথা মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের দেশ সম্পাদক মাহফুজ রহমান গ্রেফতার হলে প্রথম আলো সেটির সত্যতা উপস্থাপনে সম্পাদকীয় ছাপিয়েছিল। ২০১৩ সালে শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে দালালি করা পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘চ্যানেল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তার পত্রিকা প্রচার ইন্ডেক্সে মত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে রূপান্তরিত করেছে এবং বন্ধ হচ্ছে। চট্টগ্রামে ২৬ জুলাই ডেইলি স্টারের এক কলামে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে উগ্রবাদী ফ্যাসিস্ট ইসলামী সরকারকে সহায়তা করতে উদ্যত সম্পাদক মাহফুজ আনাম আজ কোনো কোনো জায়গায় নাটককে ‘কমেডি’ বলে দেখছেন!

হেফাজত নেতারা বলেন, নিকট অতীতে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে শত শত সাংবাদিককে নির্মমভাবে বেকার করে দেওয়া হয়েছিল। সংগ্রাম পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে প্রধান সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নয়াদিগন্ত অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেসময় সুশীল নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে আজকে তারা নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন না। 

মূল ছবি 


তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি ন্যারেটিভের গডফাদার প্রথম আলো। আর তার দোসর ডেইলি স্টার সেই ন্যারেটিভ বিদেশিদের গিলিয়েছে। এভাবে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এদেশের আলেম, মাদরাসাছাত্র ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে জেল-জুলুমের সম্মতি উৎপাদন করা হয়েছে।

এর দায় পত্রিকা দুটি কখনো এড়াতে পারে না। ওয়ান ইলেভেনের সময় পত্রিকা দুটির গণবিরোধী ভূমিকা আজও আমাদের জন্য সতর্কতা। প্রথম আলো–ডেইলি স্টার নিরপেক্ষ গণমাধ্যম নয়, বরং এদেশে দিল্লির স্বার্থ রক্ষার এজেন্ডা ও বিশেষ মতাদর্শিক রাজনৈতিক ফ্রন্টলাইন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ।


বক্তব্যকারক

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী
যুগ্মমহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ

লেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।