সূরা আন-নাযি'আত: পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১. সূরা আন-নাযি'আত কুরআনের কততম সূরা?
উত্তর: সূরা আন-নাযি'আত কুরআনের ৭৯তম সূরা।
২. এই সূরার আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তর: এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৪৬টি।
৩. সূরা আন-নাযি'আত কোথায় নাযিল হয়েছে?
উত্তর: এটি একটি মাক্কী সূরা।
৪. 'আন-নাযি'আত' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ— নির্মমভাবে আত্মা হরণকারী ফেরেশতাগণ।
ফেরেশতাদের শপথ ও দায়িত্ব (আয়াত ১-৫)
৫. এই সূরার প্রধান বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: সূরার প্রধান বিষয়বস্তু হলো কিয়ামত বা পুনরুত্থান।
৬. সূরার নামকরণ কোন শব্দের ভিত্তিতে করা হয়েছে?
উত্তর: সূরার প্রথম শব্দ 'ওয়ান নাযি'আত' (والنازعات) থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে।
৭. এই সূরাটি কোন সূরার পরে নাযিল হয়?
উত্তর: এটি সূরা 'আম্মা ইয়াতাসা-আলূনা'-র পরে নাযিল হয়।
৮. সূরার শুরুতে কয়টি গুণের অধিকারী সত্তার শপথ করা হয়েছে?
উত্তর: পাঁচটি ভিন্ন গুণের অধিকারী ফেরেশতাদের শপথ করা হয়েছে।
৯. ১নং আয়াতে কোন ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা ডুব দিয়ে কাফেরদের আত্মা অত্যন্ত কঠোরভাবে টেনে বের করে আনে।
১০. 'নাযআ' (نزع) শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো জোর করে বা টেনে বের করা।
১১. ২নং আয়াতে কোন ফেরেশতাদের শপথ করা হয়েছে?
উত্তর: যারা মুমিনদের আত্মা অত্যন্ত সহজ ও মৃদুভাবে কবজ করেন।
১২. 'নাশত' (نشط) শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো গিরা বা বাঁধন খুলে দেওয়া।
১৩. ৩নং আয়াতে ফেরেশতাদের কোন বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা দ্রুতগতিতে সন্তরণ বা সাঁতার কাটার মতো নেমে আসে।
১৪. ৪নং আয়াতে ফেরেশতাদের কোন কাজের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা নেক কাজ বা আত্মা পৌঁছানোর কাজে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে।
১৫. ৫নং আয়াতে ফেরেশতাদের কী দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা আল্লাহর আদেশে জগতের সকল কার্য নির্বাহ করে।
১৬. আসলে প্রকৃত কার্যনির্বাহক কে?
উত্তর: প্রকৃত কার্যনির্বাহক হলেন আল্লাহ তাআলা।
কিয়ামত ও পুনরুত্থান (আয়াত ৬-১৪)
১৭. সূরা আন-নাযি'আত কোন শ্রেণির সূরার অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: এটি 'মুফাসসাল' (সংক্ষিপ্ত) শ্রেণির সূরার অন্তর্ভুক্ত।
১৮. নবীজি (সা.) কোন সালাতে এই সূরাটি পাঠ করতেন?
উত্তর: তিনি জোহরের সালাতে এবং রাতের তাহাজ্জুদ সালাতে এটি পাঠ করতেন।
১৯. কিয়ামতের প্রথম ফুৎকারকে কী বলা হয়?
উত্তর: প্রথম ফুৎকারকে 'রাজফাহ' (الرَّاجِفَةُ) বলা হয়।
২০. কিয়ামতের দ্বিতীয় ফুৎকারকে কী বলা হয়?
উত্তর: দ্বিতীয় ফুৎকারকে 'রাদিফাহ' (الرَّادِفَةُ) বলা হয়।
২১. কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের হৃদয়ের অবস্থা কেমন হবে?
উত্তর: তাদের হৃদয় সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হবে।
২২. অবিশ্বাসীরা পুনরুত্থান সম্পর্কে কী বলে উপহাস করত?
উত্তর: তারা বলত, আমরা কী অস্থি চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার পরও আবার জীবিত হব?
২৩. 'সাহিরাহ' (السَّاهِرَةُ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এর অর্থ হলো কিয়ামতের ময়দান বা ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ।
মূসা (আ.) ও ফেরাউনের কাহিনী (আয়াত ১৫-২৬)
২৪. ১৫ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতে কোন নবীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: হযরত মূসা (আ.)-এর কাহিনী।
২৫. আল্লাহ মূসা (আ.)-কে কোন পবিত্র উপত্যকায় ডেকেছিলেন?
উত্তর: পবিত্র 'তুওয়া' উপত্যকায়।
২৬. মূসা (আ.)-কে কার কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: অবাধ্য সম্রাট ফেরাউনের কাছে।
২৭. ফেরাউনের সীমা লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: সে বনী ইসরাঈলের পুত্র সন্তানদের হত্যা করত এবং কন্যা সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখত।
২৮. মূসা (আ.) ফেরাউনকে কোন দাওয়াত দিয়েছিলেন?
উত্তর: নিজেকে পবিত্র করার এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসার।
২৯. মূসা (আ.) ফেরাউনকে দেখানো একটি মহা-নিদর্শন কী ছিল?
উত্তর: তাঁর লাঠি সাপে পরিণত হওয়া এবং উজ্জ্বল হাত।
৩০. ফেরাউন নিজেকে কী বলে দাবি করেছিল?
উত্তর: সে বলেছিল, "আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব"।
৩১. ফেরাউনকে আল্লাহ কীভাবে পাকড়াও করেছিলেন?
উত্তর: দুনিয়াতে তাকে সলিল সমাধি দিয়ে এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তি দিয়ে।
৩২. ফেরাউনের কাহিনী থেকে কারা শিক্ষা গ্রহণ করে?
উত্তর: যারা আল্লাহকে ভয় করে।
আল্লাহর ক্ষমতা ও পরকাল (আয়াত ২৭-৪৬)
৩৩. মানুষ সৃষ্টি না আসমান সৃষ্টি— কোনটি বেশি কঠিন?
উত্তর: আসমান বা আকাশ সৃষ্টি করা বেশি কঠিন কাজ।
৩৪. আল্লাহ আসমানকে কীভাবে সুবিন্যস্ত করেছেন?
উত্তর: এর ছাদকে করেছেন সুউচ্চ এবং ত্রুটিমুক্ত।
৩৫. রাত ও দিনের পরিবর্তন কে করেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা, তিনি রাতকে অন্ধকার এবং দিনকে আলোকিত করেন।
৩৬. জমিন থেকে পানি ও ঘাস কে বের করেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা।
৩৭. পাহাড়কে আল্লাহ জমিনে কেন স্থাপন করেছেন?
উত্তর: জমিনকে সুদৃঢ় করার জন্য।
৩৮. পৃথিবীর সকল নেয়ামত কার কল্যাণের জন্য?
উত্তর: মানুষের এবং তাদের চতুষ্পদ জন্তুর ভোগের জন্য।
৩৯. 'আত-তাম্মাতুল কুবরা' (الطَّامَّةُ الْكُبْرَى) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কিয়ামতের সেই মহাসংকট বা মহাবিপদ।
৪০. কিয়ামতের দিন মানুষ কী স্মরণ করবে?
উত্তর: মানুষ দুনিয়াতে যা যা কাজ (কৃতকর্ম) করেছে তা স্মরণ করবে।
৪১. জাহান্নামীদের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: সীমালঙ্ঘন করা এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪২. জান্নাতীদের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করা এবং কুপ্রবৃত্তি বা নফসকে দমন করা।
৪৩. কুরআন অনুযায়ী 'নফস' বা আত্মা কয় প্রকার?
উত্তর: তিন প্রকার— আম্মারাহ, লাউয়ামাহ ও মুতমাইন্নাহ।
৪৪. কিয়ামত কখন হবে তার জ্ঞান কার কাছে আছে?
উত্তর: একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে।
৪৫. কিয়ামত সম্পর্কে নবীজি (সা.)-এর দায়িত্ব কী ছিল?
উত্তর: যারা কিয়ামতকে ভয় করে তাদেরকে কেবল সতর্ক করা।
৪৬. কিয়ামতের দিন দুনিয়ার জীবনকে কতক্ষণ মনে হবে?
উত্তর: মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক প্রভাত সময়ের মতো।
৪৭. 'দুহা' (ضحى) বলতে কোন সময়কে বোঝায়?
উত্তর: সূর্যোদয় থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়।
৪৮. 'আশিয়্যাহ' (عشية) বলতে কোন সময়কে বোঝায়?
উত্তর: জোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়।
৪৯. সাহাবী উবাই ইবনে কাব (রা.) নবীজিকে কী পাঠ করার কথা বলেছিলেন?
উত্তর: নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ (সালাত) পাঠ করার কথা।
৫০. কাফেরদের আত্মা বের করার সময় ফেরেশতারা কী করেন?
উত্তর: ফেরেশতারা জোর-জবরদস্তি ও টানা-হেঁচড়া করে তাদের আত্মা বের করেন।

1 মন্তব্যসমূহ
Valo
উত্তরমুছুনলেখাটি কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানালে খুব খুশি হবো।